১৪/০. অধ্যায়ঃ
বিচারকের সামনে বাকবিতন্ডায় লিপ্ত উভয়পক্ষের বসা
বাদী-বিবাদীর সামনে শুনানি: বিচারকের ন্যায় আচরণ
বুলুগুল মারাম : ১৩৯৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৯৮
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بنِ الزُّبَيْرِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَضَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - أَنَّ الْخَصْمَيْنِ يَقْعُدَانِ بَيْنَ يَدَيِ الْحَاكِمِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফায়সলাহ দিয়েছেন যে, বাদী ও বিবাদী বিচারকের সামনে বসে থাকবে। [১৫০৬]
[১৫০৬] আবূ দাউদ ৩৫৮৮, আহমাদ ১৫৬৭২। ইবনুল মুলকিন তাঁর তুহফাতুল মুহতাজ (২/৫৭৪) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মুসআব বিন সাবিতের কারণে মাওকূফ। ইমাম শওকানি তাঁর আদ্দারারী আল মুযীয়া (৩৭৪) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মুসআব বিন সাবিত বিন আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর নামক দুর্বল রাবি রয়েছে। তিনি সাইলুল জাররার (৪/২৮০) গ্রন্থেও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন। শাইখ আলবানী তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ (৩৭১১) গ্রন্থে বলেন, মুসাআব বিন সাবিত হাদীসের ক্ষেত্রে লীন (দুর্বল)। যঈফ আবূ দাউদ (৩৫৮৮) গ্রন্থেও একে দুর্বল বলা হয়েছে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিচারকের সামনে বাদী ও বিবাদীর উপস্থিতি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফায়সালা দিয়েছেন যে, দুটো পক্ষ বিচারকের সামনে বসে থাকবে। এতে বিচার প্রক্রিয়ার একটি সুন্দর আদব বোঝা যায়। দুই পক্ষকে সামনে রাখা হলে বিচারক তাদের কথা, দাবি, জবাব ও অবস্থা ভালোভাবে শুনতে পারেন। এতে এক পক্ষকে বেশি সুযোগ দেওয়া বা অন্য পক্ষকে দূরে রাখা থেকে বাঁচা যায়। যদিও হাদিসটি ছোট, এর বার্তা পরিষ্কার: বিচার যেন উন্মুক্ত, ভারসাম্যপূর্ণ ও দুই পক্ষের জন্য সমান সুযোগের ভিত্তিতে হয়। পরিবার বা সমাজের সালিশেও এই নীতি কাজে লাগে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাদী ও বিবাদীকে বিচারকের সামনে উপস্থিত রাখা উচিত।
- দুই পক্ষের কথা শোনার পরিবেশ তৈরি করা ন্যায় বিচারকে সাহায্য করে।
- বিচার প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য জরুরি।
- এক পক্ষকে বেশি সুবিধা দেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
