১১/১. অধ্যায়ঃ
সন্ধি ও জিযইয়া - চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যাকারীর গুনাহ
জিম্মীর প্রাণের নিরাপত্তা: জান্নাতের ঘ্রাণ নিয়ে সতর্ক হাদিস
বুলুগুল মারাম : ১৩১৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩১৩
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو ٍ عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «مَنْ قَتَلَ مُعَاهَدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ, وَإِنَّ رِيحَهَا لِيُوجَدَ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًّا». أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ
আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন জিম্মীকে হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না। যদিও জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব হতে পাওয়া যাবে’। [১৪২০]
[১৪২০] বুখারী ৬৯১৪, নাসায়ী ৪৭৫০, ইবনু মাজাহ ২৬৮৬. আহমাদ ৬৭০৬।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জিম্মী বা চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের প্রাণের নিরাপত্তা। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো জিম্মীকে হত্যা করে, সে জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না; অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে। হাদিসের ভাষা খুব কঠোর সতর্কতা বহন করে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে চুক্তিবদ্ধ মানুষের প্রাণের ওপর অন্যায় আঘাত ইসলামে ভয়াবহ বিষয়। এখানে কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়; বরং প্রাণের নিরাপত্তা এবং চুক্তির মর্যাদা মূল শিক্ষা। তাই জিম্মীর অধিকার, মুআহাদ হত্যা, জান্নাতের ঘ্রাণ এবং অমুসলিমের নিরাপত্তা—এসব কীওয়ার্ড এই হাদিসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুক্তিবদ্ধ জিম্মীর প্রাণ নেওয়ার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- চুক্তি থাকা মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিসটি অন্যায় হত্যা থেকে বিরত থাকার স্পষ্ট শিক্ষা দেয়।
