১১/০. অধ্যায়ঃ
যুদ্ধে তাওরিয়া (কৌশল দ্বারা গোপনীয়তা অবলম্বন করা) করা প্রসঙ্গে
যুদ্ধকৌশলে গোপনীয়তা: নবীজির সতর্ক পরিকল্পনা
বুলুগুল মারাম : ১২৭০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৭০
وَعَنْ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ - رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - كَانَ إِذَا أَرَادَ غَزْوَةً وَرَّى بِغَيْرِهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবদুল্লাহ ইব্নু কা’ব ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখনই কোথাও যুদ্ধে যাবার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি অন্য দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে তা গোপন রাখতেন। (কৌশলে গোপনীয়তা অবলম্বন করতেন)। [১৩৭৬]
[১৩৭৬] (আরবী) শব্দের অর্থঃ নিজের বেশভূষা লুকিয়ে রেখে অন্যকে বিভ্রান্তিতে ফেলা। বুখারী ২৭৫৮, ২৯৪৮, ২৯৪৯, ২৯৫০, ৩০৮৮, মুসলিম ২৭৬৯, তিরমিযী ৩১০২, নাসায়ী ৩৮২৪, ৩৮২৫, ৩৮২৬, আবূ দাঊদ ২২০২, আহমাদ ১৫৩৪৩, ১৫৩৪৫, ১৫৩৪৪।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোথাও যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করতেন, তখন অন্য দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতেন। অনুবাদে একে কৌশলে গোপনীয়তা অবলম্বন বলা হয়েছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো পরিকল্পনা ও গোপনীয়তার গুরুত্ব। যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল কাজে সব কথা প্রকাশ করে দেওয়া নিরাপদ নয়। তাই নবীজির এই আচরণ থেকে বোঝা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কাজে সতর্কতা, পরিকল্পনা এবং তথ্য নিয়ন্ত্রণের মূল্য আছে। তবে এই ব্যাখ্যা হাদিসের সীমার মধ্যেই রাখা উচিত; এখানে সাধারণ জীবনের সব বিষয় নয়, নির্দিষ্টভাবে যুদ্ধের কৌশল বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে গোপনীয়তা রক্ষা করা দরকার।
- পরিকল্পিত কাজের ক্ষেত্রে সতর্কতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- যুদ্ধের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্য প্রকাশে সাবধানতা প্রয়োজন।
- নবীজির কাজে কৌশল ও দায়িত্বশীলতা দেখা যায়।
