১১/০. অধ্যায়ঃ
মাতা-পিতা জীবিতাবস্থায় জিহাদের বিধান
পিতা-মাতার অনুমতি ও তাঁদের কল্যাণে নিয়োজিত থাকা
বুলুগুল মারাম : ১২৬৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৬৩
وَلِأَحْمَدَ, وَأَبِي دَاوُدَ: مِنْ حَدِيثِ أَبِي سَعِيدٍ نَحْوُهُ, وَزَادَ: «ارْجِعْ فَاسْتَأْذِنْهُمَا, فَإِنْ أَذِنَا لَكَ; وَإِلَّا فَبِرَّهُمَا
আবূ সা‘ঈদ হতে বর্ণিতঃ
হাদীসে আহমাদ ও আবূ দাঊদেও অনুরূপ বর্ননা আছে- তাতে আরো আছে, তুমি বাড়ি ফিরে যাও ও পিতা-মাতার কাছে জিহাদে যাওয়ার অনুমতি চাও, তারা যদি অনুমতি দেন ভাল, অন্যথায় তাদের কল্যাণে নিয়োজিত থাক। [১৩৬৮]
[১৩৬৮] হাদীসের প্রথমাংশটুকু হচ্ছে (আরবী)। আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যক্তি ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে হিজরত করলেন। তখন তিনি বললেনঃ তোমার কি ইয়ামানে কেউ আছে? লোকটি বললেন, আমার মাতাপিতা আছেন। রাসূল বললেন, তারা কি তোমাকে অনুমতি দিয়েছেন? তিনি (লোকটি) বললেনঃ না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপরোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করলেন। আবূ দাঊদ ২৫৩০, আহমাদ ২৭৩২০।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৬৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় জিহাদে যাওয়ার আগে পিতা-মাতার অনুমতির বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বাড়ি ফিরে গিয়ে পিতা-মাতার কাছে অনুমতি চাইতে হবে। তারা অনুমতি দিলে যাওয়া যায়, আর অনুমতি না দিলে তাঁদের কল্যাণে নিয়োজিত থাকতে হবে। হাদিসটির মূল বিষয় হলো পিতা-মাতার অনুমতি ও তাঁদের প্রতি সদাচরণ। এখানে জিহাদকে হালকা করা হয়নি; বরং দেখানো হয়েছে যে জীবিত পিতা-মাতার প্রয়োজন ও হককে উপেক্ষা করা যাবে না। পরিবার দায়িত্ব, আদব এবং আনুগত্য—সব একসাথে এই হাদিসে দেখা যায়। একজন মুসলিমের জন্য শুধু আবেগ নয়, সঠিক দায়িত্ববোধও গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিহাদের মতো বড় বিষয়ে পিতা-মাতার অনুমতির গুরুত্ব আছে।
- পিতা-মাতা অনুমতি না দিলে তাঁদের কল্যাণে থাকা একটি দায়িত্ব।
- ইবাদত ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা দরকার।
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাছের মানুষের হক দেখা উচিত।
