১০/৩. অধ্যায়ঃ
চুরির দণ্ড - চুরির স্বীকারোক্তিকারীকে বারবার জিজ্ঞেস করা যাতে স্বীকার করা থেকে ফিরে আসে
স্বীকারোক্তি যাচাই ও তাওবা: চোরের ঘটনার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১২৩৪
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৩৪
وَعَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الْمَخْزُومِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ: أُتِيَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِلِصٍّ قَدِ اعْتَرَفَ اعْتِرَافًا، وَلَمْ يُوجَدْ مَعَهُ مَتَاعٌ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «مَا إِخَالَكَ سَرَقْتَ». قَالَ: بَلَى، فَأَعَادَ عَلَيْهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا، فَأَمَرَ بِهِ فَقُطِعَ. وَجِيءَ بِهِ، فَقَالَ: «اسْتَغْفِرِ اللَّهَ وَتُبْ إِلَيْهِ»، فَقَالَ: أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: «اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ»، ثَلَاثًا. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ وَاللَّفْظُ لَهُ، وَأَحْمَدُ، وَالنَّسَائِيُّ، وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ
আবু উমাইয়া মাখযুমী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে কোন এক চোরকে আনা হলো যে যথারীতি চুরির কথা স্বীকার করেছিল কিন্তু তার নিকটে কোন মাল পাওয়া যায়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তুমি চুরি করেছ বলে তো আমি মনে করছি না! সে বললঃ হাঁ (আমি চুরি করেছি)। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই কি তিনবার তাকে এ কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলেছেন। অতঃপর তাঁর আদেশক্রমে তার হাত কাটা হলো এবং তাকে পুনরায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দরবারে আনা হলো। তাকে তিনি বললেনঃ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও ও তাওবাহ কর। সে বললঃ আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছি ও তাওবাহ করছি। তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকটির জন্য ৩ বার এই বলে প্রার্থনা জানালেন যে, হে আল্লাহ! তুমি তার তাওবাহ কবুল কর। [১৩৪০]
[১৩৪০] ইবনু মাজাহ ২৫৯৭, নাসায়ী ৪৮৭৭, আবু দাউদ ৪৩৮০, আহমাদ ২২০০২, দারেমী ২৩০৩। শাইখ আলবানী যঈফ আবু দাউদে ৪৩৮০, যঈফ নাসায়ী ৪৮৯২, গ্রন্থদ্বয়ে দুর্বল বলেছেন। ইমাম যায়লাঈ তাঁর নাসবুর রায়াহ ৪/৭৬ গ্রন্থে বলেন, এর এক বর্ণনাকারী আবু মুনযির হচ্ছে অপরিচিত, এর অন্য একটি সূত্র রয়েছে। ইবনু কাসীর তাঁর ইরশাদুল ফাকীহ ২/৪২৬ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইসহাক বিন আবদুল্লাহ বিন আবু (ফুরুওয়াহ) আল মাদীনী রয়েছে, তার সম্পর্কে হাদীসবিশারদগণ সমালোচনা করেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক চোরকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আনা হয়। সে চুরির কথা স্বীকার করেছিল, কিন্তু তার কাছে কোনো মাল পাওয়া যায়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে কয়েকবার বলেন, তুমি চুরি করেছ বলে তো আমি মনে করছি না। সে বারবার স্বীকার করলে দণ্ড কার্যকর হয়। এরপর তাকে বলা হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও ও তাওবা কর। সে তাওবা করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য তিনবার দোয়া করেন। এই হাদিসে বিচারিক সতর্কতা, স্বীকারোক্তি যাচাই এবং দণ্ডের পরও তাওবার দরজা—তিনটি বিষয় স্পষ্ট। দণ্ড মানেই মানুষকে ঘৃণা করা নয়; সংশোধনের পথও আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বীকারোক্তি হলেও বিচারিক সতর্কতা জরুরি।
- দণ্ডের পরও তাওবা ও ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা আছে।
- অপরাধীর সংশোধনের জন্য দোয়া ও নসিহত করা যেতে পারে।
