১০/৩. অধ্যায়ঃ

চুরির দণ্ড - ‘আরিয়া’র (নিজের প্রয়াজন মেটাতে ফেরত দেয়ার শর্তে সাময়িকভাবে কোন কিছু গ্ৰহণ করা) অস্বীকারকারীর বিধান এবং শাস্তির ক্ষেত্রে সুপারিশ করা নিষেধ

হাদ্দে সুপারিশ নয়: ন্যায়ের সমতার হাদিস

বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৩১

وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ؟». ثُمَّ قَامَ فَاخْتَطَبَ، فَقَالَ: «أَيُّهَا (1) النَّاسُ! إِنَّمَا هَلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ ... ». الْحَدِيثَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍوَلَهُ مِنْ وَجْهٍ آخَرَ: عَنْ عَائِشَةَ: كَانَتِ امْرَأَةٌ تَسْتَعِيرُ الْمَتَاعَ، وَتَجْحَدُهُ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - بِقَطْعِ يَدِهَا

আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি গুলোর একটি শাস্তির ব্যাপারে আমার কাছে সুপারিশ করছ? এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন এবং খুতবা দিলেন। বললেন, হে লোকসকল! তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা তাদের মধ্যকার উচ্চ শ্রেণীর কোন লোক চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত। পক্ষান্তরে কোন দুর্বল লোক চুরি করলে তার উপর নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করত।অন্য সূত্রে আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। কোন এক নারী আসবাবপত্র চেয়ে নিয়ে তা (ফেরত না দিয়ে) অস্বীকার করে বসত, ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার হাত কাটার আদেশ দিয়েছিলেন। [১৩৩৭]

[১৩৩৭] বুখারী ২৬৪৮, ৩৪৭৫, ৩৭৩৩, ৪৩০৪, মুসলিম ১৬৮৮, তিরমিযী ১৪৩০, নাসায়ী ৪৮৯৫, ৪৮৯৭, ৪৮৯৮, আবু দাউদ ৪৩৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, আহমাদ ২২৯৬৮, মালেক ২৩০২।

বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তুমি কি আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তির বিষয়ে আমার কাছে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি খুতবায় বলেন, পূর্ববর্তী উম্মতরা এ কারণে ধ্বংস হয়েছিল যে, সম্মানিত লোক চুরি করলে তাকে ছেড়ে দিত, আর দুর্বল লোক চুরি করলে তার উপর শাস্তি প্রয়োগ করত। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, বিচার সবার জন্য সমান হওয়া দরকার। ক্ষমতা, বংশ বা সামাজিক অবস্থান দেখে বিচার বদলানো অন্যায়। এখানে চুরি, হাদ্দ এবং সুপারিশের সীমা নিয়ে স্পষ্ট সতর্কতা এসেছে। অন্য সূত্রে আসবাবপত্র ধার নিয়ে অস্বীকার করার ঘটনার কথাও এসেছে। তাই এই হাদিস ন্যায়বিচার ও সামাজিক সমতার জন্য খুব শক্ত শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিচারে উচ্চ-নিম্ন ভেদ করা অন্যায়।
  • হাদ্দের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয় যখন বিষয়টি বিচারিক পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
  • ন্যায়বিচার সমাজের আস্থা রক্ষার বড় মাধ্যম।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন