১/৮. অধ্যায়ঃ
গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির (জুনুবী) হুকুম - স্বামী-স্ত্রী একই পাত্রে একসাথে গোসল করার বিধান
একই পাত্র থেকে ফরজ গোসল: নবীজির ঘরোয়া শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১২৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৩
وَعَنْهَا قَالَتْ: كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ, تَخْتَلِفُ أَيْدِينَا فِيهِ مِنَ الْجَنَابَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِزَادَ ابْنُ حِبَّانَ: وَتَلْتَقِي
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আমি ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একই পত্র (এর পানি) থেকে জনবতের (ফরজ) গোসল করতাম; তাতে আমাদের পরস্পরের হাত পাত্রের মধ্যে আসা যাওয়া করতো।’ [১৪৭] ইবনু হিব্বানে অতিরিক্ত শব্দ এসেছেঃ আমাদের দু'জনের হাত পরস্পরের হাতকে স্পর্শ করতো।’ [১৪৮]
[১৪৭] বুখারী ২৬১; মুসলিম ৪৫, ৩২১; বুখারীর বর্ণনায় (আরবী) শব্দ নেই।[১৪৮] ইবনু হিব্বান (১১১১) এর সনদ সহীহ। তবে ইবনু হাজার তাঁর ফাতহুল বারীতে হাদীসটি মুদরাজ হওয়ার পক্ষাবলম্বন করেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জানাবাতের ফরজ গোসল একই পাত্রের পানি থেকে করতেন। পাত্রে দুজনের হাত আসা-যাওয়া করত। ইবনু হিব্বানের অতিরিক্ত বর্ণনায় দুজনের হাত পরস্পর স্পর্শ করার কথাও এসেছে। এখানে মূল বিষয় হলো পানি ব্যবহার ও দাম্পত্য জীবনের স্বাভাবিকতা। “একই পাত্রে গোসল”, “স্বামী-স্ত্রীর ফরজ গোসল” এবং “জানাবাতের গোসল” বিষয়ে এই হাদিস মানুষকে অকারণ সংকোচ থেকে দূরে রাখে। এতে এমন কোনো কথা নেই যে গোসলের সব খুঁটিনাটি পদ্ধতি এখানে বলা হয়েছে; বরং নির্দিষ্টভাবে একই পাত্রের পানি ব্যবহার করার বিষয়টি এসেছে। তাই ব্যাখ্যার সময় শুধু এতটুকুই বলা উচিত যে, বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে এ ধরনের পানি ব্যবহার ও গোসলের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামী-স্ত্রী একই পাত্রের পানি ব্যবহার করতে পারেন—এ বর্ণনায় তা এসেছে।
- জানাবাতের গোসলে পানি ব্যবহারের বাস্তব দিক বোঝা যায়।
- ঘরোয়া প্রশ্নেও হাদিস থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়।
