১০/২. অধ্যায়ঃ
যিনার অপবাদ প্রদানকারীর শাস্তি - দাসের প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ আরোপকারীর বিধান
ক্রীতদাসকে অপবাদ: কিয়ামতের দিনের জবাবদিহি
বুলুগুল মারাম : ১২২৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২২৭
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَذْفَ مَمْلُوكَهُ يُقَامُ عَلَيْهِ الْحَدُّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ, إِلَّا أَنْ يَكُونَ كَمَا قَالَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে কেউ আপন ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করল – অথচ সে তা থেকে পবিত্র যা সে বলেছে- ক্বিয়ামাত দিবসে তাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি এমনই হয় যেমন সে বলেছে (সে ক্ষেত্রে কশাঘাত করা হবে না)। [১৩৩৩]
[১৩৩৩] বুখারী ৬৮৫৮, মুসলিম ১৬৬০, তিরমিযী ১৯৪৭, আবু দাউদ ৫১৬৫, আহমাদ ৯২৮৩, ১০১১০।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের ক্রীতদাসের প্রতি অপবাদ আরোপ করে, অথচ সে ওই অভিযোগ থেকে পবিত্র, কিয়ামতের দিনে তাকে কশাঘাত করা হবে। তবে যদি ঘটনা সত্য হয়, তখন সেই কথা আলাদা। এই বর্ণনা মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে খুব শক্ত শিক্ষা দেয়। সমাজে যার অবস্থান নিচু মনে করা হয়, তার সম্মানও অবহেলার বিষয় নয়। ক্রীতদাসের উপর অপবাদ, মিথ্যা অভিযোগ এবং কিয়ামতের জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয় এখানে একসাথে এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ক্ষমতা বা মালিকানা কাউকে অন্যের সম্মান নষ্ট করার অধিকার দেয় না। কথা বলার আগে সত্যতা যাচাই করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধীনস্থ মানুষের সম্মানও রক্ষা করতে হবে।
- মিথ্যা অপবাদ কিয়ামতের দিনে জবাবদিহির কারণ হতে পারে।
- ক্ষমতা থাকলেও কাউকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করা যাবে না।
