১০/১. অধ্যায়ঃ
ব্যভিচারীর দণ্ড - ব্যভিচারের স্বীকারোক্তিকারীকে বার বার জিজ্ঞেস করা যাতে শাস্তি থেকে রক্ষা পায়
মায়িয রাঃ-এর ঘটনা: যিনার অভিযোগে আগে যাচাই, তারপর ফায়সালা
বুলুগুল মারাম : ১২০৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২০৮
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَمَّا أَتَى مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ لَهُ: «لَعَلَّكَ قَبَّلْتَ, أَوْ غَمَزْتَ, أَوْ نَظَرْتَ» قَالَ: لَا، يَا رَسُولَ اللَّهِ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন মায়িয ইব্নু মালিক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এল তখন তাকে বললেন সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছ অথবা ইশারা করেছ অথবা (খারাপ দৃষ্টিতে) তাকিয়েছ? সে বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! [১৩১৫]
[১৩১৫] বুখারী ২৮২৪, মুসলিম ১৬৯৩, তিরমিযী ১৪২৭, আবূ দাঊদ ৪৪২১, ৪৪২৬, ৪৪২৭, আহমাদ ২১৩০, ২৩১০, ২৪২৯। হাদীসটির বাকী অংশ হচ্ছেঃ (আরবী) তিনি বললেনঃ তাহলে কি তার সঙ্গে তুমি সঙ্গম করেছ? কথাটি তিনি তাকে অস্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করেননি, (বরং স্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করেছেন)। সে বলল, হ্যাঁ। তখন তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। বুখারী ৬৮২৪, মুসলিম ১৬৯৩, তিরমিযী ১৪২৭, আবূ দাঊদ ৪৪২১, ৪৪২৭, আহমাদ ২১৩০, ২৩১০, ২৪২৯।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মায়িয ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর ঘটনা এসেছে। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এলে রাসূল صلى الله عليه وسلم তাকে জিজ্ঞেস করেন, সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছ, অথবা ইশারা করেছ, অথবা খারাপ দৃষ্টিতে তাকিয়েছ? তিনি বলেন, না, হে আল্লাহর রাসূল। এই ছোট হাদিসটি অপরাধ যাচাইয়ের বড় শিক্ষা দেয়। নবী صلى الله عليه وسلم সরাসরি বড় অপরাধ ধরে নেননি; বরং সম্ভাব্য কম মাত্রার কাজগুলো আগে উল্লেখ করেছেন। এতে বোঝা যায়, যিনার মতো গুরুতর বিষয়ে অস্পষ্ট কথা বা অনুমান দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। মূল বিষয় হলো, স্বীকারোক্তির ভাষা পরিষ্কার হওয়া দরকার। এই হাদিস বিচার, সতর্কতা এবং হদ্দ প্রয়োগে সন্দেহ দূর করার গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর অভিযোগে আগে কথার অর্থ পরিষ্কার করা দরকার।
- নবী صلى الله عليه وسلم কম মাত্রার সম্ভাবনাগুলো আগে জিজ্ঞেস করেছেন।
- অনুমান করে বড় অপরাধ সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।
- স্বীকারোক্তি স্পষ্ট হওয়া বিচারিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
