৯/০. অধ্যায়ঃ
নিহতের অভিভাবকদের কিসাস এবং দিয়াত- এ দুটোর কোন একটির সুযোগ দেওয়া
নিহতের পরিবারের অধিকার: দিয়াত নাকি কিসাস
বুলুগুল মারাম : ১১৭৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৭৫
وَعَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «فَمَنْ قُتِلَ لَهُ قَتِيلٌ بَعْدَ مَقَالَتِي هَذِهِ, فَأَهْلُهُ بَيْنَ خِيَرَتَيْنِ: إِمَّا أَنْ يَأْخُذُوا الْعَقْلِ أَوْ يَقْتُلُوا». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ
আবু শুরাইহ খুযাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার এ ঘোষণার পর কোন খুনের বদলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ (দিয়াত) গ্রহণ করবে, নয় সে প্রাণদন্ডের (কিসাসের) দাবী করবে। [১২৭৮]
[১২৭৮] আর দাউদ ৪৫০৪, তিরমিয়ী ১৪০৪, আহমদ ১৫৯৩৮, ১৫৯৪২।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তাঁর ঘোষণার পর যার কেউ নিহত হবে, নিহত ব্যক্তির পরিবার দুই বিষয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে পারবে: তারা আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা দিয়াত গ্রহণ করবে, অথবা প্রাণদণ্ড তথা কিসাস দাবি করবে। হাদিসটির মূল বিষয় হলো নিহতের পরিবারের অধিকার। এখানে ক্ষমা, আপস, দিয়াত এবং কিসাস—এসব বিচারিক পথের কথা সংক্ষিপ্তভাবে এসেছে। হাদিসটি বুঝতে হলে মনে রাখতে হবে, এটি ব্যক্তিগত প্রতিশোধের ডাক নয়; বরং বিচারিক সিদ্ধান্তের অধিকার ও বিকল্পের কথা বলছে। তাই ‘দিয়াত’, ‘কিসাস’, ‘খুনের বিচার’ এবং ‘নিহতের ওয়ারিস’—এই শব্দগুলো এই হাদিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নিহতের পরিবার দিয়াত বা কিসাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
- হত্যার বিচার শুধু আবেগ নয়, নির্দিষ্ট অধিকার ও বিধানের বিষয়।
- দিয়াত গ্রহণের পথও হাদিসে উল্লেখ আছে।
- কিসাস দাবি করার অধিকারও নিহতের পরিবারের জন্য এসেছে।
