৯/০. অধ্যায়ঃ

ক্ষত সেরে উঠার পূর্বে কিসাস বা প্রতিশোধ নেওয়া নিষেধ

জখম সেরে ওঠার আগে কিসাসের রায় নয়

বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৬৭

وَعَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ, عَنْ أَبِيهِ, عَنْ جَدِّهِ; - رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلًا طَعَنَ رَجُلًا بِقَرْنٍ فِي رُكْبَتِهِ, فَجَاءَ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: أَقِدْنِي. فَقَالَ: «حَتَّى تَبْرَأَ». ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: أَقِدْنِي, فَأَقَادَهُ, ثُمَّ جَاءَ إِلَيْهِ. فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! عَرِجْتُ, فَقَالَ: «قَدْ نَهَيْتُكَ فَعَصَيْتَنِي, فَأَبْعَدَكَ اللَّهُ, وَبَطَلَ عَرَجُكَ». ثُمَّ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - «أَنْ يُقْتَصَّ مِنْ جُرْحٍ حَتَّى يَبْرَأَ صَاحِبُهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَأُعِلَّ بِالْإِرْسَالِ

শুআইব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কোন এক লোক অন্য এক লোকের হাঁটুতে শিং দ্বারা আঘাত করে । সে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এসে বললোঃ আমার বদলা নিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তুমি ক্ষত সেরে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা কর। লোকটি কিন্তু (সেরে যাওয়ার আগেই) আবার এসে বললোঃ আমার জখমের মূল্য বা খেসারত আদায় করে দিন। ফলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার খেসারত আদায় করে দেন। তারপর লোকটি এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো খোড়া হয়ে গেলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাকে নিষেধ করেছিলাম তুমি তা মাননি। ফলে আল্লাহ তোমাকে (তাঁর রহমাত হতে) দূর করে দিয়েছেন এবং তোমার খোড়াত্ব বাতিল হয়ে গেছে। (দিয়াত আদায়ের যোগ্য রাখেননি)। এরপর থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন জখম আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত জখমী লোকের পক্ষে কোন বদলা আদায়ের ফয়সালা দিতে নিষেধ করেছেন। [১২৭০]

[১২৭০] আহমাদ ২১৭, দারাকুতনী ৩/৮৮ এর সনদে ইরসালের দোষ থাকলেও তা ক্ষতিকর নয়, কেননা অনেকগুলো শাহেদ থাকার কারণে এটি সহীহর পর্যায়ভুক্ত। ইমাম সনআনী বলেন, এর সমার্থক হাদীস থাকার কারণে এটিকে শক্তিশালী করেছে। ইবনু তুর্কমান বলেন, ৮৬৭, অনেক সনদে বর্ণিত বলে একে অপরকে শক্তিশালী করেছে।

বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৬৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তির হাঁটুতে শিং দিয়ে আঘাত করে। আহত ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বদলা চাইলে তিনি বলেন, ক্ষত সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। কিন্তু লোকটি অপেক্ষা না করে আবার আসে এবং বদলা বা খেসারত চাইতে থাকে। পরে তার জন্য খেসারত আদায় করা হয়। এরপর সে এসে বলে, সে খোঁড়া হয়ে গেছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তিনি আগে তাকে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু সে মানেনি। এরপর থেকে জখম পুরোপুরি ভালো না হওয়া পর্যন্ত জখমের কিসাসের ফয়সালা দিতে নিষেধ করা হয়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো জখমের বিচার তাড়াহুড়া করে নয়; বরং ক্ষতির শেষ অবস্থা পরিষ্কার হওয়ার পর করা উচিত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জখমের কিসাসে তাড়াহুড়া না করে ক্ষত সেরে ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।
  • বিচারে ক্ষতির শেষ অবস্থা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
  • নবী صلى الله عليه وسلم-এর পরামর্শ অমান্য করলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেই বিপদে পড়তে পারে।
  • আঘাতের বিচার ধৈর্য ও স্পষ্টতার সঙ্গে হওয়া উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন