৯/০. অধ্যায়ঃ
গরীব পরিবারের বালকের অপরাধের বিধান
কান কাটার ঘটনায় দিয়াত: দরিদ্রতার বিবেচনা
বুলুগুল মারাম : ১১৬৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৬৬
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ - رضي الله عنه: أَنَّ غُلَامًا لِأُنَاسٍ فُقَرَاءَ قَطَعَ أُذُنَ غُلَامٍ لِأُنَاسٍ أَغْنِيَاءَ, فَأَتَوا النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَلَمْ يَجْعَلْ لَهُمْ شَيْئًا. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالثَّلَاثَةُ, بِإِسْنَادٍ صَحِيحٍ
ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
গরীব লোকেদের কোন এক ছেলে ধনী লোকেদের কোন এক বালকের কান কেটে ফেলে। তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকটে বিচার প্রার্থী হয়। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের জন্য কোন দিয়াত দেয়ার ব্যবস্থা করেননি। (তাদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ সম্ভব ছিল না বলে)। [১২৬৯]
[১২৬৯] আর দাউদ ৪৫৯০, নাসায়ী ৪৭৫১, নাসায়ী ৪৭৫১, দারেমী ২৩৬৮।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, গরিব লোকদের এক ছেলে ধনী লোকদের এক বালকের কান কেটে ফেলে। এরপর বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের জন্য কোনো দিয়াত বা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করেননি। অনুবাদে উল্লেখ আছে, তাদের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব ছিল না বলে এমন করা হয়। হাদিসটি সংক্ষিপ্ত হলেও এতে ‘কান কাটার ক্ষতিপূরণ’, ‘দিয়াত’, ‘দরিদ্রতার বিবেচনা’ এবং ‘বিচারিক সিদ্ধান্ত’—এই বিষয়গুলো আসে। এটি সাধারণ নিয়ম বানিয়ে সব ঘটনার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার মতো নয়; বরং প্রদত্ত ঘটনাটির নির্দিষ্ট বিচার হিসেবে বুঝতে হবে। এখানে অপরাধ, ক্ষতিপূরণ এবং সক্ষমতার দিকটি একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আঘাতের ঘটনায় বিচার করার সময় বাস্তব অবস্থা বিবেচনায় এসেছে।
- দিয়াতের বিষয়টি ঘটনার ধরন ও সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
- ধনী-গরিবের বিরোধেও নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বিচার নেওয়া হয়েছে।
- একটি নির্দিষ্ট ঘটনার রায়কে বুঝতে সতর্কতা দরকার।
