৮/১৪. অধ্যায়ঃ
লালন-পালনের দায়িত্ব বহন - স্বামী/স্ত্রীর কেউ কাফির হলে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী হওয়ার হুকুম
সন্তানের জন্য হিদায়াতের দোয়া: পিতা-মাতার মাঝে একটি ঘটনা
বুলুগুল মারাম : ১১৫৩
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৫৩
وَعَنْ رَافِعِ بْنِ سِنَانٍ; أَنَّهُ أَسْلَمَ, وَأَبَتِ امْرَأَتُهُ أَنْ تُسْلِمَ. فَأَقْعَدَ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - الْأُمَّ نَاحِيَةً, وَالْأَبَ نَاحِيَةً, وَأَقْعَدَ الصَّبِيَّ بَيْنَهُمَا. فَمَالَ إِلَى أُمِّهِ, فَقَالَ: «اللَّهُمَّ اهْدِهِ». فَمَالَ إِلَى أَبِيهِ, فَأَخَذَهُ. أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَالْحَاكِمُ
রাফি’ ইবনু সিনান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ইসলাম ক্ববুল করলেন আর তার স্ত্রী ইসলাম ক্ববুল করতে অস্বীকার করে। এরূপ অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (কাফিরা) মাকে এক প্রান্তে বসালেন এবং পিতাকে বসালেন এবং বালকটিকে দু’জনের মাঝে বসালেন। বালকটি তার মার দিকে ঝুকেঁ পড়তে আরম্ভ করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বলে দু’য়া করলেন, হে আল্লাহ! তাকে সঠিক পথের সন্ধান দাও। তারপর সে তার পিতার দিকে অগ্রসর হলো, ফলে তার পিতা তাকে ধরে নিলো। [১২৫৬]
[১২৫৬] আবূ দাউদ ২২৪৪, আহমাদ ২৩২৪৫। আলবানি সহিহ বলেছেন, দেখুন তাহকিক নাসায়ী
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেন, কিন্তু তার স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাকে এক পাশে, পিতাকে এক পাশে এবং শিশুকে মাঝখানে বসালেন। শিশুটি প্রথমে মায়ের দিকে ঝুঁকতে থাকে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলেন, হে আল্লাহ, তাকে সঠিক পথের সন্ধান দাও। এরপর শিশুটি পিতার দিকে এগিয়ে গেল এবং পিতা তাকে নিয়ে নিলেন। এই হাদিসে সন্তানের বিষয়টি শুধু আবেগ দিয়ে নয়, হিদায়াতের দোয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এখানে পিতা-মাতার ভিন্ন ধর্মীয় অবস্থার বিশেষ ঘটনা এসেছে। তাই এটি সাধারণ সব কাস্টডি ঘটনার সঙ্গে মিশিয়ে দেখা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের জন্য হিদায়াতের দোয়া করা গুরুত্বপূর্ণ।
- পিতা-মাতার ভিন্ন অবস্থায় শিশুর বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয়েছে।
- নবীজি সিদ্ধান্তের আগে শিশুকে দুজনের মাঝে বসিয়েছেন।
- হিদায়াত আল্লাহর কাছে চাওয়ার বিষয়।
