৮/১৪. অধ্যায়ঃ
লালন-পালনের দায়িত্ব বহন - মা’ই সন্তান পালনের ব্যাপারে অধিক হাক্বদার যতক্ষণ সে অন্যত্র বিবাহ না করে
তালাকের পর সন্তানের লালনে মায়ের অগ্রাধিকার
বুলুগুল মারাম : ১১৫১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৫১
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِوٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ اِمْرَأَةً قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّ ابْنِي هَذَا كَانَ بَطْنِي لَهُ وِعَاءً, وَثَدْيِي لَهُ سِقَاءً, وَحِجْرِي لَهُ حِوَاءً, وَإِنَّ أَبَاهُ طَلَّقَنِي, وَأَرَادَ أَنْ يَنْتَزِعَهُ مِنِّي. فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «أَنْتِ أَحَقُّ بِهِ, مَا لَمْ تَنْكِحِي». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ الْحَاكِمُ
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক রমণী এসে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ পুত্রের জন্য আমার পেট তার আধার, আমার স্তনদ্বয় তার জন্য মশক, আমার কোলই তাঁর আশ্রয় স্থল ছিল। তার পিতা আমাকে ত্বালাক দিয়েছে এবং আমার নিকট থেকে তাকে ছিনিয়ে নেয়ার ইচ্ছা করছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ মেয়েটিকে বললেনঃ তুমিই এ সন্তানের (পালনের) অধিক হাক্বদার যতক্ষণ তুমি অন্য স্বামী গ্রহণ না করবে। [১২৫৪]
[১২৫৪] আবূ দাউদ ২২৭৬, আহমাদ ৬৬৬৮, হাকিম ২০৭।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক মা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে নিজের সন্তানের বিষয়ে অভিযোগ করলেন। তিনি বললেন, এই সন্তান তার পেটে ছিল, তার স্তন থেকে দুধ পেয়েছে এবং তার কোলে আশ্রয় পেয়েছে। সন্তানের পিতা তাকে তালাক দিয়েছে এবং সন্তানকে নিয়ে যেতে চাইছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি এই সন্তানের বেশি হকদার, যতক্ষণ তুমি অন্য স্বামী গ্রহণ না করবে। এই হাদিসে মায়ের যত্ন, দুধপান, কোলে রাখা ও শিশুর লালন-পালনের বাস্তব সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সন্তান লালন, মায়ের হক এবং তালাকের পর সন্তানের দেখাশোনা—এই বিষয়গুলো এখানে সরাসরি এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ছোট সন্তানের লালনে মায়ের ভূমিকা গুরুত্ব পেয়েছে।
- তালাকের পরও মায়ের হক অস্বীকার করা যায় না।
- মা সন্তানকে গর্ভ, দুধ ও কোলে আশ্রয় দিয়ে বড় করে।
- অন্য স্বামী গ্রহণের আগে মা সন্তানের বেশি হকদার বলা হয়েছে।
