৮/১২. অধ্যায়ঃ
সন্তানকে দুধ খাওয়ান প্রসঙ্গ - ক্ষুধা নিবারণের দুধ পান বৈবাহিক সম্পর্ককে হারাম করে
দুধ ভাই যাচাই: ক্ষুধার কারণে দুধপানেই সম্পর্ক সাব্যস্ত
বুলুগুল মারাম : ১১২৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১২৮
وَعَنْهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «انْظُرْنَ مَنْ إِخْوَانُكُنَّ, فَإِنَّمَا الرَّضَاعَةُ مِنَ الْمَجَاعَةِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আয়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নারীগণ, কে তোমার সত্যিকার দুধ ভাই তা যাচাই করে দেখে নিও। কেননা, ক্ষুধার কারণে দুধ পানের ফলেই শুধু দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয়। [১২৩১]
[১২৩১] বুখারী ২৬৪৭, ৫১০২, মুসলিম ১৪৫৫, নাসায়ী ৩৩১২, আর দাউদ ২০৫৮, ইবনু মাজাহ ১৯৪৫, দারেমী ২২৫৬। আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট আসলেন, তখন আমার নিকট জনৈক ব্যক্তি ছিল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে ‘আয়িশাহ! এ কে? আমি বললাম, আমার দুধ ভাই। তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ কে তোমার সত্যিকার দুধ ভাই তা যাচাই করে দেখে নিও। কেননা, ক্ষুধার কারণে দুধ পানের ফলেই শুধু দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের বলেছেন, কে সত্যিকার দুধ ভাই তা যাচাই করে নিতে। কারণ দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হয় সেই দুধপানের মাধ্যমে, যা ক্ষুধার কারণে হয়। এখানে মূল শিক্ষা হলো দুধ সম্পর্ককে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না, আবার অযথা সন্দেহও করা যাবে না। কারও সঙ্গে দুধ ভাই বা দুধ বোনের সম্পর্ক দাবি করলে তা যাচাই করতে হবে। এই সম্পর্ক বিয়ে, পর্দা ও পারিবারিক আচরণের সাথে জড়িত হতে পারে। তাই শোনা কথা বা অনুমানের উপর নয়, বরং বাস্তব দুধপানের অবস্থা বিবেচনা করা দরকার। হাদিসটি সতর্কতা ও সঠিক পরিচয় যাচাইয়ের শিক্ষা দেয়। এতে পারিবারিক সম্পর্ক পরিষ্কার থাকে এবং অযথা জটিলতা কমে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধ ভাই দাবি করলে তা যাচাই করতে বলা হয়েছে।
- ক্ষুধার কারণে দুধপানের বিষয়টি এখানে গুরুত্ব পেয়েছে।
- দুধ সম্পর্ক অনুমান দিয়ে সাব্যস্ত করা ঠিক নয়।
- পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার।
