১/৮. অধ্যায়ঃ
গোসল ও যৌন অপবিত্র ব্যক্তির (জুনুবী) হুকুম - স্ত্রীর বীর্য বা মনী বের হলে গোসল করা আবশ্যক
নারীর স্বপ্নদোষ হলে গোসল: চিহ্ন থাকলে পবিত্র হতে হবে
বুলুগুল মারাম : ১১১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১১
وَعَنْ أَنَسِ [بْنِ مَالِكٍ]- رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي الْمَرْأَةِ تَرَى فِي مَنَامِهَا مَا يَرَى الرَّجُلُ- قَالَ: «تَغْتَسِلُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِزَادَ مُسْلِمٌ: فَقَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ: وَهَلْ يَكُونُ هَذَا? قَالَ: «نَعَمْ فَمِنْ أَيْنَ يَكُونُ الشَّبَهُ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মেয়েরাও যদি স্বপ্নে (যৌন মিলন) দেখে যা পুরুষরা দেখে থাকে তাহলে তার সম্বন্ধে বলেছেন, (শুক্রের চিহ্ন দেখতে পেলে) “তাকে গোসল করতে হবে।” (মুত্তাফাকুন আলাইহ) [১৩২] মুসলিমে অতিরিক্ত আছে: “অত:পর উম্মু সালামাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বললেন, ‘এটা কি হয়! (অর্থাৎ স্বপ্নে কি মেয়েদের বীর্য নির্গত হয়?’ তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘হ্যাঁ, হয়। নচেৎ সন্তান কিভাবে (মেয়েদের) সাদৃশ্য হয়ে থাকে?’ [১৩৩]
[১৩২] ইবনু হাজার আসকালানী ভুল বশত: মুত্তাফাকুন আলাইহি বলেছেন। কেননা এ হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেননি।[১৩৩] মুসলিম ৩১১ হাদীসটির পূরোটাই বর্ণনা করেছেন। তা হচ্ছে- আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, উম্মু সালামাহ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে জিজ্ঞেস করলেন, কোন মহিলা যদি স্বপ্নে পুরুষেরা যেরকম দেখে থাকে সেরকম দেখে তাহলে কী করবে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, কোন নারী যদি এরকম কিছু দেখে তবে সে গোসল করবে। অত:পর উম্মু সুলাইম বলেন, আমি এ কথায় লজ্জা পেয়ে গেলাম। রাবী বলেন, উম্মু সুলাইম বললেন, এটা কি করে সম্ভব? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, অবশ্যই সম্ভব। তাহলে সন্তান-সন্ততি পিতামাতার সদৃশ হয়ে থাকে কোত্থেকে? পুরুষের বীর্য গাঢ় এবং সাদা এবং নারীর বীর্য হালকা এবং হলদে বর্ণের। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে যার বীর্য শক্তিশালী হয় বা পূর্বে জরায়ুতে প্রবেশ করে সন্তান তার সদৃশ হয়ে থাকে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নারীর স্বপ্নদোষের বিষয়ে আরেকটি স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো নারী যদি স্বপ্নে পুরুষরা যা দেখে তা দেখে, তাহলে তাকে গোসল করতে হবে। অনুবাদে চিহ্ন দেখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। মুসলিমের অতিরিক্ত বর্ণনায় উম্মু সালামাহ (রাঃ) আশ্চর্য হয়ে প্রশ্ন করেন, এটি কি হয়? তখন নবীজি বলেন, হ্যাঁ, হয়; নচেৎ সন্তান মায়ের সাদৃশ্য কীভাবে হয়। এখানে শিক্ষা হলো, পবিত্রতার জ্ঞান বাস্তব জীবনের সঙ্গে জড়িত। নারীর ইহতিলাম, ফরজ গোসল এবং বীর্যের চিহ্ন—এসব বিষয় শালীন ভাষায় জানা দরকার। হাদিসটি মুত্তাফাকুন আলাইহ হিসেবে বর্ণিত, আর মুসলিমে অতিরিক্ত অংশ এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারী স্বপ্নদোষের পর চিহ্ন পেলে গোসল করবে।
- পবিত্রতার প্রশ্নে লজ্জা নয়, সঠিক জ্ঞান দরকার।
- হাদিসে নারীর বাস্তব শারীরিক অবস্থার কথাও স্বীকৃত হয়েছে।
- গোসলের বিধান বুঝতে চিহ্ন দেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
