১/৭. অধ্যায়ঃ
কাযায়ে হাযাত বা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেয়ার (পায়খানা প্রস্রাবের) বর্ণনা - ইস্তিঞ্জা করার সময় পানি ও পাথর একত্রিত করার বিধান
ইস্তেঞ্জায় পানি ব্যবহারের হাদিস: পাথরের উল্লেখ ছাড়া মূল বর্ণনা
বুলুগুল মারাম : ১০৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১০৭
وَأَصْلُهُ فِي أَبِي دَاوُدَ, وَالتِّرْمِذِيّ وَصَحَّحَهُ ابْنُ خُزَيْمَةَ مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - بِدُونِ ذِكْرِ الْحِجَارَةِ
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
এর মূল বক্তব্য আবূ দাঊদ ও তিরমিযীতে রয়েছে এবং ইবনু খুযাইমাহ আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীসকে সহীহ বলেছেন। কিন্তু পাথরের কথা সেখানে উল্লেখ নেই। (শুধুমাত্র পানির কথা উল্লেখ আছে)। [১২৬]
[১২৬] আবূ দাঊদ ৪৪); তিরমিযী ৩১০০) আবূ হুরাইরা হতে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: এ আয়াতটি কুবা বাসীদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। তাদের মধ্যে এমন কতক লোক ছিল যারা পবিত্রতা অর্জন করতে অত্যন্ত পছন্দ করতো। রাবী বলেন, তারা পানির দ্বারা শৌচ কার্য করতো। তাদের ব্যাপারে এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলুগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন: যদিও এ হাদীসের সনদটি দুর্বল। কিন্তু এ হাদীসের কতক শাহেদ তথা সমর্থক হাদীস থাকার কারণে সেগুলো এ হাদীসকে সহীহ হাদীসে পরিনত করেছে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আগের হাদিসের মূল বক্তব্যের উৎস সম্পর্কে বলা হয়েছে। এখানে জানানো হয়েছে, এর মূল বক্তব্য আবূ দাঊদ ও তিরমিযীতে আছে এবং ইবনু খুযাইমাহ আবূ হুরাইরা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদিসকে সহীহ বলেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, সেখানে পাথরের কথা উল্লেখ নেই; শুধু পানির কথা আছে। তাই কোনো হাদিস বুঝতে গেলে শব্দের পার্থক্য খেয়াল করা দরকার। একই বিষয়ের ভিন্ন বর্ণনায় কী আছে আর কী নেই, তা জানা জরুরি। এই হাদিসের কোর টপিক হলো ইস্তেঞ্জায় পানি ব্যবহার এবং বর্ণনার নির্ভুলতা। পবিত্রতা নিয়ে কথা বলার সময় হাদিসের ভাষা যতটা বলে, ততটাই বলা নিরাপদ। অতিরিক্ত দাবি যোগ করলে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসের শব্দ ও বর্ণনার পার্থক্য বুঝে কথা বলা উচিত।
- এই বর্ণনায় পানির উল্লেখ আছে, পাথরের উল্লেখ নেই।
- পবিত্রতার বিষয়ে সহীহ বর্ণনাকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
- হাদিস থেকে শিক্ষা নিতে হলে সূত্র ও ভাষা দুটিই খেয়াল করা প্রয়োজন।
