৮/১. অধ্যায়ঃ
বিবাহের ব্যাপারে সমতা ও বিচ্ছেদের স্বাধীনতা - যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মগ্রহণ করে এমতাবস্থায় তার কাছে আপনি দু’বোন স্ত্রী হিসেবে রয়েছে এর বিধান
দুই সহোদর বোনকে একসাথে স্ত্রী রাখা যাবে না
বুলুগুল মারাম : ১০০৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১০০৭
وَعَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ فَيْرُوزَ الدَّيْلَمِيِّ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنِّي أَسْلَمْتُ وَتَحْتِي أُخْتَانِ, فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «طَلِّقْ أَيَّتَهُمَا شِئْتَ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ إِلَّا النَّسَائِيَّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ, وَالدَّارَقُطْنِيُّ, وَالْبَيْهَقِيُّ, وَأَعَلَّهُ الْبُخَارِيُّ
যাহ্হাক্ বিন ফাইরুয দায়লামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহন করেছি এবং আমার বিবাহে দু’ (সহোদর) বোন রয়েছে। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বলেনঃ তোমার ইচ্ছামত এদের মধ্যে একজনকে তালাক দিয়ে পৃথক করে দাও। -ইবনু হিব্বান, দারাকুতনী ও বাইহাকী একে সহীহ বলেছেন; আর বুখারী সানাদের ত্রুটি বর্ণনা করেছেন। [১১০১]
[১১০১] তিরমিয়ী ১১২০, নাসায়ী ৩৪১৬, আহমাদ ৪২৭১, ৪২৯৬, মালেক ২২৫৮। মুহাম্মাদ বিন আবদুল হাদী তাঁর তানকীহ তাহকীক আত তালীক ৩/১৮৩ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেনঃ ইমাম বুখারী বলেন, (আরবী)। ইমাম বুখারী বলেন, যাহহাক বিন ফাইরোজ তাঁর পিতা থেকে, তাঁর পিতা ওয়াহ জাইশানী থেকে শুনেছেন, এ বিষয়ে আমরা জানি না। আলবানী সহীহ আবু দাউদ ২২৪৩, সহীহ ইবনু মাজাহ ১৬০০ গ্রন্থে একে হাসান বলেছেন, তাখরীজ মিশকাত ৩১১৩ গ্রন্থে এর সনদকে মাওকুফ ও অত্যন্ত দুর্বল বলা হয়েছে। ইমাম বুখারী আত তারীখুল কাবীর ৩/২৪৮ গ্রন্থে বলেন, এর সনদটি বিতর্কিত। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়ামী ৩/৫৯৯ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইবনু লাহিআহ রয়েছে।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১০০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর তার পারিবারিক অবস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, তার বিবাহে দুই সহোদর বোন আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা একজনকে তালাক দিয়ে পৃথক করে দাও। হাদিসের সরাসরি বক্তব্য হলো, ইসলাম গ্রহণের পরও এমন বৈবাহিক অবস্থান বহাল রাখা যাবে না যেখানে দুই সহোদর বোন একই ব্যক্তির স্ত্রী থাকে। এখানে সিদ্ধান্তের সুযোগ দেওয়া হয়েছে—তিনি যাকে চান রাখবেন এবং অন্যজনকে পৃথক করবেন। বর্ণনার শেষে মুহাদ্দিসদের মন্তব্যও আছে: ইবনু হিব্বান, দারাকুতনী ও বাইহাকী একে সহীহ বলেছেন; আর বুখারী সানাদের ত্রুটি বলেছেন। তাই বিধান, সানাদ ও বিবাহের সীমা—সব দিক থেকেই হাদিসটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার মতো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুই সহোদর বোনকে একই সঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রাখা যাবে না।
- ইসলাম গ্রহণের পর পূর্বের বৈবাহিক অবস্থাও সংশোধন করতে হতে পারে।
- ব্যক্তিকে একজনকে রাখার এবং অন্যজনকে পৃথক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- সানাদ বিষয়ে মুহাদ্দিসদের মন্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।
