১৯/১২. অধ্যায়ঃ
ওয়ালাআ (আজাদকৃত গোলামের পরিত্যক্ত মাল)
ওয়ালা সঞ্চয় হলে আসাবার অধিকার
সুনানে আবূ দাউদ : ২৯১৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৯১৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ أَبِي الْحَجَّاجِ أَبُو مَعْمَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رِئَابَ بْنَ حُذَيْفَةَ، تَزَوَّجَ امْرَأَةً فَوَلَدَتْ لَهُ ثَلاَثَةَ غِلْمَةٍ فَمَاتَتْ أُمُّهُمْ فَوَرِثُوهَا رِبَاعَهَا وَوَلاَءَ مَوَالِيهَا وَكَانَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ عَصَبَةَ بَنِيهَا فَأَخْرَجَهُمْ إِلَى الشَّامِ فَمَاتُوا فَقَدِمَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ وَمَاتَ مَوْلًى لَهَا وَتَرَكَ مَالاً لَهُ فَخَاصَمَهُ إِخْوَتُهَا إِلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَقَالَ عُمَرُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا أَحْرَزَ الْوَلَدُ أَوِ الْوَالِدُ فَهُوَ لِعَصَبَتِهِ مَنْ كَانَ " . قَالَ فَكَتَبَ لَهُ كِتَابًا فِيهِ شَهَادَةُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَزَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ وَرَجُلٍ آخَرَ فَلَمَّا اسْتُخْلِفَ عَبْدُ الْمَلِكِ اخْتَصَمُوا إِلَى هِشَامِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ أَوْ إِلَى إِسْمَاعِيلَ بْنِ هِشَامٍ فَرَفَعَهُمْ إِلَى عَبْدِ الْمَلِكِ فَقَالَ هَذَا مِنَ الْقَضَاءِ الَّذِي مَا كُنْتُ أَرَاهُ . قَالَ فَقَضَى لَنَا بِكِتَابِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ فَنَحْنُ فِيهِ إِلَى السَّاعَةِ .
আমর ইবনু শু‘আইব (রহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
রিয়াব ইবন হুযাইফা জনৈক মহিলাকে বিবাহ করেন এবং তার গর্ভে তিনটি সন্তান জন্ম হয়। অতঃপর তাদের মা মারা গেলে তারা তার পরিত্যক্ত বাড়ি ও আযাদকৃত দাসের সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। আমর ইবন আস (রাঃ) ছিলেন তাদের আত্মীয়। পরবর্তী সময় তিনি তাদেরকে সিরিয়ায় প্রেরণ করেন। তারা সেখানে মৃত্যুবরণ করে। পরে আমর ইবন আস সেখানে যান। তখন ঐ মহিলার মুক্তদাস কিছু মালপত্র রেখে মারা যায়।মহিলার ভাইয়েরা আমরের বিরুদ্ধে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট অভিযোগ করলে উমর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পিতা বা পুত্র যে ওয়ালা সঞ্চয় করলো সেগুলো তার আসাবা পাবে। আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) বলেন, উমর (রাঃ) আমরকে একটি রায় লিখেন। এতে আবদুর রহমান ইবন আওফ, যায়িদ ইবন সাবিত (রাঃ) ও অন্য এক লোক সাক্ষী হন।আবদুল মালিক যখন (৬৮৫ খ্রি.) খলীফা হলেন, তখন হিশাম ইবন ইসমাঈল বা ইসমাঈল ইবন হিশামের নিকট অনুরূপ একটি অভিযোগ করা হয়। তিনি বিষয়টি আবদুল মালিকের নিকট পাঠিয়ে দেন। আবদুল মালিক বলেন, আমার মনে হয় এর ফয়সালা ইতিপূর্বে আমার নজরে পড়েছে। তিনি উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর রায় অনুসারেই রায় দিলেন। আর সেই ওয়ালার সম্পত্তি এখনো আমাদের অধিকারে রয়েছে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৯১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে ওয়ালা ও আসাবা সম্পর্কিত একটি বিচারিক ঘটনা এসেছে। এক মহিলার সন্তানরা তার বাড়ি ও আযাদকৃত দাসের ওয়ালার উত্তরাধিকারী হয়। পরে তারা মারা গেলে এবং ওয়ালা-সম্পর্কিত সম্পদ নিয়ে বিরোধ হলে উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে বিষয়টি ওঠে। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী উল্লেখ করেন: পিতা বা পুত্র যে ওয়ালা সঞ্চয় করে, তা তার আসাবা পাবে। পরে উমর (রাঃ) এ বিষয়ে লিখিত রায় দেন, যেখানে কয়েকজন সাহাবীর সাক্ষ্য ছিল। এই হাদিসে ‘আসাবা’, ‘ওয়ালার উত্তরাধিকার’, ‘মুক্তদাসের মীরাস’—এসব মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ালা-সম্পর্কিত মীরাসে আসাবার অধিকার উল্লেখ হয়েছে।
- উমর (রাঃ) নবীজির বাণীকে ভিত্তি করে রায় দিয়েছেন।
- জটিল মীরাস বিষয়ে লিখিত রায় ও সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- ওয়ালা ও মীরাসের বিষয় শুধু ব্যক্তিগত দাবি নয়, বিচারিক বিষয়ও।
