৫/১৭. অধ্যায়ঃ
তাহাজ্জুদ সালাতের বাধ্যবাধকতা রহিত করে শিথিল করা হয়েছে
সূরা মুয্যাম্মিলের আলোকে কিয়ামুল লাইল
সুনানে আবূ দাউদ : ১৩০৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৩০৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَرْوَزِيُّ ابْنُ شَبُّويَةَ، حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ يَزِيدَ النَّحْوِيِّ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ فِي الْمُزَّمِّلِ { قُمِ اللَّيْلَ إِلاَّ قَلِيلاً * نِصْفَهُ } نَسَخَتْهَا الآيَةُ الَّتِي فِيهَا { عَلِمَ أَنْ لَنْ تُحْصُوهُ فَتَابَ عَلَيْكُمْ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ } وَنَاشِئَةُ اللَّيْلِ أَوَّلُهُ وَكَانَتْ صَلاَتُهُمْ لأَوَّلِ اللَّيْلِ يَقُولُ هُوَ أَجْدَرُ أَنْ تُحْصُوا مَا فَرَضَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ مِنْ قِيَامِ اللَّيْلِ وَذَلِكَ أَنَّ الإِنْسَانَ إِذَا نَامَ لَمْ يَدْرِ مَتَى يَسْتَيْقِظُ وَقَوْلُهُ { أَقْوَمُ قِيلاً } هُوَ أَجْدَرُ أَنْ يُفْقَهَ فِي الْقُرْآنِ وَقَوْلُهُ { إِنَّ لَكَ فِي النَّهَارِ سَبْحًا طَوِيلاً } يَقُولُ فَرَاغًا طَوِيلاً .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি সূরা মুয্যাম্মিল সম্পর্কে বলেন, আল্লাহর বাণীঃ “কুমিল্লাইল্লাহ ইল্লা কালীলা নিসফাহু” (অর্থঃ আপনি রাতের কিছু অংশ ব্যতীত সারা রাত আল্লাহর ইবাদতে দাঁড়িয়ে থাকুন)। অতঃপর এর পরবর্তী আয়াতটি এ নির্দেশকে রহিত করেঃ “আলিমা আন লান না তুহসুহু ফাতাবা আলাইকুম ফাকরাউ মা তয়সসর মিনাল কুরআন।” (অর্থঃ তিনি খুব ভাল করেই জানেন যে, তা করা তোমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাই তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। সুতরাং এখন তোমরা কুরআনের যতটুকু পাঠ করা সম্ভব ততটুকুই পড়ো) এবং রাতের প্রথমাংশ।তাদের সালাত রাতের প্রথমভাগেই হয়ে থাকতো।ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, কাজেই আল্লাহ তোমাদের উপর যেটুকু রাতের ইবাদত ফরজ করেছেন তা সঠিকভাবে আদায় করো। কেননা মানুষ ঘুমিয়ে গেলে কখন সে জাগ্রত হবে তা বলতে পারে না।আল্লাহর বাণীঃ “আকওয়ামু বলা” – অর্থ হচ্ছে কুরআনকে অনুধাবন করার অধিক যোগ্য।আল্লাহর বাণীঃ “ইন্না লাকা ফিন নাহারি সাবহান তাওয়ীলা” এর অর্থ হচ্ছে, আপনি দিনের বেলায় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৩০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস রাঃ সূরা মুয্যাম্মিলের রাতের সালাত সম্পর্কিত আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। প্রথমে রাতের বড় অংশ দাঁড়িয়ে ইবাদতের কথা ছিল। পরে যে আয়াতে বলা হয়েছে, তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পড়ো, তা আগের নির্দেশকে সহজ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, রাতের প্রথম অংশে সালাত আদায় করা তাদের জন্য সুবিধাজনক ছিল, কারণ মানুষ ঘুমিয়ে গেলে কখন জাগবে তা জানে না। এখানে কিয়ামুল লাইলের সঙ্গে বাস্তবতার মিল দেখা যায়। আল্লাহর ইবাদত করতে হবে, কিন্তু মানুষের শক্তি, ঘুম ও সময়ের বিষয়ও বিবেচনায় আছে। এছাড়া আকওয়ামু ক্বীলা কথার অর্থ কুরআন বোঝার জন্য বেশি উপযোগী বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতে কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পড়ার শিক্ষা আছে।
- ঘুমিয়ে পড়লে জাগা নিশ্চিত নয়, তাই ইবাদতে সময়ের মূল্য বোঝা দরকার।
- রাতের কিরাআত কুরআন বোঝার জন্য উপকারী হতে পারে।
- ইবাদতে সহজতা ও সামর্থ্যের দিক হাদিসে স্পষ্ট হয়েছে।
