৩/৫. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা’আলার সম্ভষ্টি ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জনের প্রতি ভীতি প্ৰদৰ্শনঃ
গর্ব, বিতর্ক ও লোকদেখানোর জন্য ইলম শেখার সতর্কতা
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব : ১০৬
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিবহাদিস নম্বর ১০৬
(صحيح لغيره) وروي عن كعب بن مالك قاَلَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ طَلَبَ الْعِلْمَ لِيُجَارِيَ بِهِ الْعُلَمَاءَ أَوْ لِيُمَارِيَ بِهِ السُّفَهَاءَ أَوْ يَصْرِفَ بِهِ وُجُوهَ النَّاسِ إِلَيْهِ أَدْخَلَهُ اللَّهُ النَّارَ. رواه الترمذي واللفظ له وابن أبي الدنيا في كتاب الصمت وغيره والحاكم شاهدا والبيهقي، وقال الترمذي حديث غريب
কা’ব বিন মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে একথা বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি বিদ্যান্বেষন করবে এই উদ্দেশ্যে যে, তা দ্বারা ওলামাদের কাতারে শামিল হবে। অথবা দুর্বল বিবেক সম্পন্ন লোকদের সাথে বিতর্ক করবে এবং মানুষের দৃষ্টি তার দিকে ফিরাবে। তবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন।”(হাদীছটি বর্ণনা করেছেন তিরমিযী, ইবনু আবী দুনিয়া [কিতাবুছ ছমত গ্রন্থে] ও বায়হাকী। হাকেম অন্য হাদীছের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেনঃ হাদীছটি গরীব। এ হাদীসের শব্দরূপ তাঁর কিতাব থেকেই গৃহীত হয়েছে)
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১০৬-এর সারসংক্ষেপ
কোর টপিক: ইলমের নিয়ত। এই হাদিসে তিনটি ভুল উদ্দেশ্যের কথা এসেছে। কেউ যদি ইলম শেখে আলেমদের কাতারে নিজেকে বড় দেখাতে, অজ্ঞ বা দুর্বল বিবেকের লোকদের সাথে তর্ক করতে, অথবা মানুষের দৃষ্টি নিজের দিকে টানতে—তাহলে তার জন্য কঠিন পরিণতির সতর্কতা এসেছে। এখানে শিক্ষা হলো, ইলম মানুষকে বিনয়ী করার কথা, অহংকারী করার কথা নয়। জ্ঞান যদি ঝগড়ার অস্ত্র হয়, তাহলে তা মানুষের অন্তরকে নরম করার বদলে কঠিন করে দিতে পারে। আবার মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য ইলম শেখা ইখলাসের বিপরীত। তাই ইলম অর্জনকারীকে নিজের উদ্দেশ্য পরিষ্কার রাখতে হবে: শেখা হবে সত্য জানার জন্য, আমল করার জন্য এবং কল্যাণ ছড়ানোর জন্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইলম শেখার উদ্দেশ্য আত্মপ্রচার হওয়া উচিত নয়।
- জ্ঞানকে ঝগড়া ও তর্কের অস্ত্র বানানো নিন্দনীয়।
- আলেমদের সামনে নিজেকে বড় দেখানোর মনোভাব থেকে বাঁচতে হবে।
- মানুষের দৃষ্টি নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই ইলমের আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
