৩/১১৬. অধ্যায়ঃ
পান-পাত্রের বিবরণ (সব ধরনের পাক পাত্রে পান করা জায়েজ। সোনা রুপার পাত্র ছাড়া সকল প্রকার পাক পবিত্র পাত্রে পান করা বৈধ। কোন ধরনের পাত্র বা হাত না ব্যবহার করে সরাসরি মুখ দিয়ে নদী বা ঝর্না ইত্যাদি থেকে পান করা বৈধ, সোনা রুপার পাত্রে পানাহার, ওজু ও অন্যান্য সব ধরনের ব্যবহার হারাম)
সোনা-রূপা ছাড়া সমস্ত পবিত্র পানপাত্রে পান করা জায়েয। আর বিনা পাত্রে ও হাত না লাগিয়ে সরাসরি নদী ইত্যাদির পানিতে মুখ লাগিয়ে পান করা বৈধ এবং পানাহার, ওযূ তথা সমস্ত কাজে সোনা-রূপার পাত্র ব্যবহার হারাম।
রূপার পাত্রে পান করার ভয়াবহ সতর্কতা
রিয়াদুস সলেহিন : ৫/৭৮২
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৫/৭৮২
وَعَن أُمِّ سَلَمَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم قَالَ: اَلَّذِيْ يَشْرَبُ فِي آنِيَةِ الفِضَّةِ، إنَّمَا يُجَرْجِرُ في بَطْنِهِ نَارَ جَهَنَّمَ . متفقٌ عَلَيْهِ .وفي رواية لمسلم: إنَّ الَّذِي يَأكُلُ أَوْ يَشْرَبُ في آنِيَةِ الفِضَّةِ وَالذَّهَبِ .وفي رواية لَهُ: مَنْ شَرِبَ في إناءٍ مِنْ ذَهَبٍ أَوْ فِضَّةٍ، فَإنَّمَا يُجَرْجِرُ في بَطْنِهِ نَارَاً مِنْ جَهَنَّم
উম্মে সালামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উম্মে সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু ’আনহা হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে আসলে নিজ উদরে জাহান্নামের আগুন ঢক্ঢক্ করে পান করে।’’ (বুখারী)[১]মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’যে ব্যক্তি সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করে...।’’ তাঁর অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’যে ব্যক্তি সোনা অথবা রূপার পাত্রে পান করে, সে আসলে নিজ উদরে জাহান্নামের আগুন ঢক্ঢক্ করে পান করে।’’
সহীহুল বুখারী ৫৬৩৪, মুসলিম ২০৬৫, ইবনু মাজাহ ৩৪১৩, আহমাদ ২৬০২৮, ২৬০৪২, ২৬০৫৫, ২৬০৭১, মুওয়াত্তা মালেক ১৭১৭, দারেমী ২১২৯
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৫/৭৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রূপার পাত্রে পান করার বিষয়ে খুব কঠোর ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি রূপার পাত্রে পান করে, সে যেন নিজের পেটে জাহান্নামের আগুন ঢকঢক করে পান করে। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় সোনা-রূপার পাত্রে পানাহারের কথাও এসেছে। হাদিসটি আমাদের শেখায়, খাবার বা পানীয় গ্রহণের পাত্রও দ্বীনের আদবের বাইরে নয়। মানুষ অনেক সময় বাহারি পাত্রকে সম্মান ও মর্যাদার চিহ্ন মনে করে; কিন্তু এই হাদিস জানিয়ে দেয়, আল্লাহর রাসূল صلى الله عليه وسلم যেটি নিষেধ করেছেন, তা বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই সোনা-রূপার পাত্রের ব্যবহার থেকে বেঁচে থাকা নিরাপদ ও আনুগত্যপূর্ণ পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রূপার পাত্রে পান করার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- সোনা-রূপার পাত্রে পানাহার করা থেকে মুসলিমকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।
- খাবার-পানীয়ের পাত্র নির্বাচনেও নববী নির্দেশনা মানা জরুরি।
- বাহ্যিক বিলাসিতা কখনো শরিয়তের নিষেধকে হালকা করে না।
