২/৮৫. অধ্যায়ঃ
গোপনীয়তা রক্ষা করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿وَأَوۡفُواْ بِٱلۡعَهۡدِۖ إِنَّ ٱلۡعَهۡدَ كَانَ مَسُۡٔولٗا﴾ [الاسراء: ٣٤]অর্থাৎ “প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৪ আয়াত)
দাম্পত্য গোপনীয়তা: স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা রক্ষার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৬৯০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৬৯০
وَعَن أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: « إنَّ مِنْ أشَرِّ النَّاسِ عِنْدَ اللهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ القِيَامَةِ الرَّجُلَ يُفْضِي إِلَى الْمَرْأةِ وتُفْضِي إِلَيْهِ، ثُمَّ يَنْشُرُ سِرَّهَا » رواه مسلم
আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ’’কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ সেই ব্যক্তি হবে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলন করে এবং স্ত্রী তার সঙ্গে মিলন করে। অতঃপর সে তার (স্ত্রীর) গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়।’’ (মুসলিম) [১]
মুসলিম ১৪৩৭, আবূ দাউদ ৪৮৭০, আহমাদ ১১২৫৮
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৬৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্বামী-স্ত্রীর গোপনীয়তা সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট অবস্থার মানুষের মধ্যে সে ব্যক্তি থাকবে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হয় এবং স্ত্রী তার সঙ্গে মিলিত হয়, তারপর সে স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করে দেয়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, দাম্পত্য সম্পর্কের ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের কাছে বলা উচিত নয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও সম্মানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। ব্যক্তিগত কথা প্রকাশ করলে সেই বিশ্বাস নষ্ট হয় এবং অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। তাই ইসলামে গোপনীয়তা রক্ষা শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; এটি আমানতের অংশ। এই হাদিস স্বামী-স্ত্রী উভয়কে ব্যক্তিগত সীমা ও সম্মান রক্ষার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বামী-স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করা নিন্দনীয়।
- দাম্পত্য সম্পর্ক বিশ্বাস ও সম্মানের ওপর দাঁড়ায়।
- ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের সামনে বলা থেকে বিরত থাকতে হয়।
- গোপনীয়তা রক্ষা আমানতের অংশ।
