১/৬০. অধ্যায়ঃ
দানশীলতা এবং আল্লাহর উপর ভরসা করে পুণ্য কাজে ব্যয় করার বিবরণ
মহান আল্লাহ বলেন,وَمَآ أَنفَقۡتُم مِّن شَيۡءٖ فَهُوَ يُخۡلِفُهُ) [سبا: ٣٩]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তিনি তার বিনিময় দেবেন।” (সূরা সাবা’ ৩৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ﴾[البقرة: ٢٧٢]অর্থাৎ “তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, তা নিজেদের উপকারের জন্যই। আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে তোমরা দান করো না। আর তোমরা যা দান কর, তার পুরস্কার পূর্ণভাবে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি অন্যায় করা হবে না।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ﴾[البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাকারাহ ২৭৩ আয়াত)
সম্পদ জমিয়ে না রেখে দানের পথে খরচ করার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১৬/৫৬৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৬/৫৬৪
وَعَن أَسمَاءَ بِنتِ أَبي بَكرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَت: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لاَ تُوكِي فَيُوكَى عَلَيْكِ». وَفِي رِوَايَةٍ: «أنفقي أَوِ انْفَحِي، أَوْ انْضَحِي، وَلاَ تُحصِي فَيُحْصِي اللهُ عَلَيْكِ، وَلاَ تُوعي فَيُوعي اللهُ عَلَيْكِ ». متفقٌ عَلَيْهِ
আসমা বিনতে আবূ বাক্র (রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, ’’তুমি সম্পদ বেঁধে (জমা করে) রেখো না, এরূপ করলে তোমার নিকট (আসা থেকে) তা বেঁধে রাখা হবে।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’’খরচ কর, অথবা ছেড়ে দাও, অথবা প্রবাহমান কর, গুনে গুনে রেখো না, এরূপ করলে আল্লাহও তোমাকে গুনে গুনে দেবেন। আর তুমি জমা করে রেখো না, এরূপ করলে আল্লাহও তোমার প্রতি (খরচ না করে) জমা করে রাখবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ১৪৩৩, ১৪৩৪, ২৫৯০, ২৫৯১, মুসলিম ১০২৯, তিরমিযী ১৯৬০, নাসায়ী ২৫৫১, আবূ দাউদ ১৬৯৯, আহমাদ ২৪৫৫৮, ২৬৩৭২, ২৬৩৮২, ২৬৩৯৪, ২৬৪৩০, ২৬৪৪০, ২৬৪৪৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৬/৫৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আসমা বিনতে আবূ বকর রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সম্পদ বেঁধে বা আটকে না রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ দান ও খরচের দরজা বন্ধ করে রাখা উচিত নয়। অন্য বর্ণনায় এসেছে, খরচ কর, প্রবাহমান কর, গুনে গুনে রেখো না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কৃপণতার মানসিকতা মানুষকে সংকীর্ণ করে। যে ব্যক্তি সবসময় ধরে রাখে, হিসাব করে আটকে রাখে এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় খরচ করতে চায় না, তার জন্য কল্যাণের পথ সংকুচিত হতে পারে। হাদিসটি অপচয় শেখায় না; বরং দানের মন, উদারতা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা শেখায়। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খরচ করা মুমিনের সুন্দর গুণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দান ও প্রয়োজনীয় খরচের দরজা বন্ধ করে রাখা ঠিক নয়।
- কৃপণতার মানসিকতা মানুষের হৃদয়কে সংকীর্ণ করে।
- আল্লাহর পথে খরচ করতে উদার মন দরকার।
- হিসাব করে আটকে রাখা নয়, সামর্থ্য অনুযায়ী কল্যাণে খরচ করা উচিত।
