১/২৭. অধ্যায়ঃ
মুসলিমদের মান-মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা-প্রদর্শন ও তাদের অধিকার-রক্ষা এবং তাদের প্রতি দয়া-দাক্ষিণ্যের গুরুত্ব
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَمَن يُعَظِّمۡ حُرُمَٰتِ ٱللَّهِ فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥ عِندَ رَبِّهِۦۗ ﴾ [الحج: ٣٠]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে তার প্রতিপালকের নিকট তার জন্য এটাই উত্তম।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩০ আয়াত)আরো বলেন,﴿وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ ﴾ [الحج: ٣٢]অর্থাৎ “কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ।” (সূরা হাজ্জ্ব ৩২ আয়াত)তিনি বলেন,﴿ وَٱخۡفِضۡ جَنَاحَكَ لِمَنِ ٱتَّبَعَكَ مِنَ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٢١٥ ﴾ [الشعراء: ٢١٥]অর্থাৎ “বিশ্বাসীদের জন্য তুমি তোমার বাহুকে অবনমিত রাখ।” (হিজ্র ৮৮আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿مَن قَتَلَ نَفۡسَۢا بِغَيۡرِ نَفۡسٍ أَوۡ فَسَادٖ فِي ٱلۡأَرۡضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ ٱلنَّاسَ جَمِيعٗا وَمَنۡ أَحۡيَاهَا فَكَأَنَّمَآ أَحۡيَا ٱلنَّاسَ جَمِيعٗاۚ ﴾ [المائدة: ٣٢]অর্থাৎ “যে ব্যক্তি নরহত্যা অথবা পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করার দণ্ডদান উদ্দেশ্য ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করল। আর কেউ কারো প্রাণরক্ষা করলে সে যেন পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করল।” (সূরা মায়েদাহ ৩২ আয়াত)
ফজর নামাজের মর্যাদা: আল্লাহর যিম্মাদারীতে থাকা
রিয়াদুস সালেহীন : ১১/২৩৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১১/২৩৭
وَعَن جُندُبِ بنِ عَبدِ اللهِ رضي الله عنه، قَالَ : قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ صَلَّى صَلاةَ الصُّبْحِ فَهُوَ في ذِمَّةِ الله فَلاَ يَطْلُبَنَّكُمُ الله مِنْ ذِمَّته بشَيءٍ، فَإنَّهُ مَنْ يَطْلُبْهُ منْ ذمَّته بشَيءٍ يُدْركْهُ، ثُمَّ يَكُبُّهُ عَلَى وَجْهِهِ في نَارِ جَهَنَّمَ». رواه مسلم
জুন্দুব ইবনু আব্দিল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামা’আতে) পড়ল, সে আল্লাহর যিম্মাদারীতে চলে এল। সুতরাং আল্লাহ যেন তোমাদের কাছে তার যিম্মার কিছু দাবী না করেন। কারণ, যার কাছেই তিনি তাঁর যিম্মার কিছু দাবী করবেন, তাকে পাকড়াও করবেন। অতঃপর তিনি তাকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’’ (মুসলিম) [১](বলা বাহুল্য, যে নামায পড়ে, সে আল্লাহর যিম্মাদারীতে। সুতরাং সে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র।)
মুসলিম ৬৫৭১, তিরমিযী ২২২, নাসায়ী ৮২৫, আহমাদ ১৮৩২৬, ১৮৩৩৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১১/২৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফজর নামাজের মর্যাদা ও নামাজ আদায়কারীর সম্মানের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়ল, সে আল্লাহর যিম্মাদারীতে চলে এল। এরপর কঠিন সতর্কতা দেওয়া হয়েছে—আল্লাহ যেন তোমাদের কাছে তাঁর যিম্মার কিছু দাবি না করেন। কারণ যার কাছেই তিনি তাঁর যিম্মার কিছু দাবি করবেন, তাকে পাকড়াও করবেন এবং শেষে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। হাদিসের পাশে দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যে নামাজ পড়ে, সে আল্লাহর যিম্মাদারীতে; তাই সে সম্মান ও শ্রদ্ধার পাত্র। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ফজর নামাজের গুরুত্ব যেমন বড়, তেমনি নামাজি মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া বা তার হক নষ্ট করা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজর নামাজ আদায়কারীর বিশেষ মর্যাদা আছে।
- নামাজি মুসলিমকে কষ্ট দেওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- আল্লাহর যিম্মার বিষয়কে হালকা মনে করা ঠিক নয়।
- ফজর নামাজ মুসলিম জীবনে গুরুত্বের সঙ্গে রাখা দরকার।
