১৮/৩১১. অধ্যায়ঃ
[কাঁচা] রসূন, পিঁয়াজ, লিক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
পিঁয়াজ-রসুনের গন্ধ দূর করা: জুমার খুতবার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১৭১৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১৭১৩
وَعَنْ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنهُ : أَنَّهُ خَطَبَ يَومَ الجُمُعَةِ فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ : ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ تَأكُلُونَ شَجَرتَيْنِ مَا أَرَاهُمَا إِلاَّ خَبِيثَتَيْن: البَصَلَ وَالثُّومَ. لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِذَا وَجدَ ريحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي المَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ، فَأُخْرِجَ إِلَى البَقِيعِ، فَمَنْ أَكَلَهُمَا، فَلْيُمِتْهُمَا طَبْخاً. رواه مسلم
উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক জুমার দিন খুতবা দিলেন, সে খুতবায় তিনি বললেন, ’’....অতঃপর তোমরা হে লোক সকল! দুই শ্রেণীর এমন গাছ [সবজী] খেয়ে থাক; যা [কাঁচা অবস্থায়] খাওয়ার অনুপযুক্ত মনে করি; পিঁয়াজ আর রসুন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদের মধ্যে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ দুই [সবজি]র দুর্গন্ধ পেতেন, তখন তাকে [মসজিদ থেকে বহিষ্কার করতে] আদেশ দিতেন। ফলে তাকে বাকী’ [নামক জায়গা] পর্যন্ত বের করে দেওয়া হত। সুতরাং যে ঐ দুই সবজী খেতে চায়, সে যেন ঐগুলি রান্না করে তার গন্ধ মেরে খায়।’’(মুসলিম)[১]
মুসলিম ৫৬৭, ইবনু মাজাহ ৩৩৬৩, ১০১৪, নাসায়ী ৭০৩, আহমাদ ৯০, ৩৪৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১৭১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমার ইবনুল খাত্তাব (রা.) জুমার খুতবায় পিঁয়াজ ও রসুনের বিষয়ে মানুষকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, মানুষ এমন দুই ধরনের গাছ বা সবজি খায়, যা তিনি কাঁচা অবস্থায় অনুপযুক্ত মনে করেন—পিঁয়াজ ও রসুন। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দেখেছেন, মসজিদে কারও কাছ থেকে এগুলোর দুর্গন্ধ পেলে তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিতেন, এমনকি বাকী পর্যন্ত বের করে দেওয়া হতো। এরপর উমার (রা.) বলেন, যে এগুলো খেতে চায়, সে যেন রান্না করে গন্ধ মেরে খায়। হাদিসটি মসজিদের আদব, জুমার শালীনতা এবং মুসল্লিদের কষ্ট না দেওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাঁচা পিঁয়াজ-রসুনের গন্ধ নিয়ে মসজিদে যাওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- গন্ধ দূর করতে রান্না করে খাওয়ার নির্দেশনা এসেছে।
- মসজিদে অন্যদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
- জুমার খুতবায় সমাজের প্রয়োজনীয় আদব শেখানো যায়।
