১৭/২৫৩. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿ أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ ٦٢ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ ٦٣ لَهُمُ الْبُشْرَىٰ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۚ لَا تَبْدِيلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ ٦٤﴾(يونس : ٦٢، ٦٤“মনে রেখো যে, আল্লাহর বন্ধুদের না কোন আশংকা আছে আর না তারা বিষণ্ণ হবে। তারা হচ্ছে সেই লোক যারা ঈমান এনে তাক্বওয়া অবলম্বন করে থাকে। তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও; আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই; এটাই হচ্ছে বিরাট সফলতা।”(সূরা ইউনুস ৬২-৬৪ আয়াত)আরও বলেন,﴿ وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا ٢٥ فَكُلِي وَاشْرَبِي﴾(مريم: ٢٥، ٢٦“তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কাণ্ড হিলিয়ে দাও; ওটা তোমার সামনে সদ্যপক্ব তাজা খেজুর ফেলতে থাকবে। সুতরাং আহার কর, পান কর---।”(সূরা মারয়্যাম ২৫-২৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿ لَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا ۖ قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَٰذَا ۖ قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ ۖ إِنَّ اللَّهَ يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ٣٧﴾(ال عمران: ٣٧“যখনই যাকারিয়া মিহরাবে (কক্ষে) তার সঙ্গে দেখা করতে যেত, তখনই তার নিকট খাদ্য-সামগ্রী দেখতে পেত। সে বলত, ’হে মারয়্যাম! এসব তুমি কোথা থেকে পেলে?’ সে বলত, ’তা আল্লাহর কাছ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পর্যাপ্ত জীবিকা দান করে থাকেন।”(সূরা আলে ইমরান ৩৭ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿وَإِذِ اعْتَزَلْتُمُوهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ فَأْوُوا إِلَى الْكَهْفِ يَنْشُرْ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيُهَيِّئْ لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُمْ مِرْفَقًا ١٦ وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ ١٧﴾(الكهف: ١٦، ١٧“তোমরা যখন তাদের ও তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করে তাদের সংস্পর্শ হতে বিচ্ছিন্ন হলে তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর; তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তাঁর দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করবার ব্যবস্থা করবেন। তুমি দেখলে দেখতে, সূর্য উদয়কালে তাদের গুহার ডান দিকে হেলে অতিক্রম করছে এবং অস্তকালে তাদেরকে অতিক্রম করছে বাম পাশ দিয়ে---।”(সূরা কাহাফ ১৬-১৭ আয়াত)
উমর রাঃ-এর ধারণা বাস্তব হওয়া: প্রখর বুঝের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১৫১৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১৫১৮
وعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: مَا سَمِعْتُ عُمَرَ رضي الله عنه يَقُوْلُ لِشَيءٍ قَطُّ: إِنِّي لأَظُنُّهُ كَذَا، إِلاَّ كَانَ كَمَا يَظُنُّ . رواه البخاري
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, “যখনই কোন বিষয়ে আমি উমর (রাঃ)-কে বলতে শুনতাম, ’আমার মনে হয়, এটা এই হবে’ তখনই (দেখতাম) বাস্তবে তাই হত; যা তিনি ধারণা করতেন!”(বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ৩৮৬৪, ৩৮৬৫, ৩৮৬৬
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১৫১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর রাঃ তাঁর পিতা উমর রাঃ সম্পর্কে একটি বিশেষ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, যখনই তিনি উমর রাঃ-কে কোনো বিষয়ে বলতে শুনতেন, ‘আমার মনে হয়, এটা এমন হবে’, তখনই বাস্তবে সেটি তাঁর ধারণার মতোই হতো। এই বর্ণনা উমর রাঃ-এর গভীর বুঝ, সঠিক বিচারবোধ এবং আল্লাহর দেওয়া বিশেষ সহায়তার ইঙ্গিত দেয়। এটি আগের হাদিসে বলা ‘মুহাদ্দাস’ বা ইলহামপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়। তবে এ থেকে নিজের মনগড়া ধারণাকে শরীয়তের দলীল বানানোর শিক্ষা নেওয়া যাবে না। হাদিসটি বিশেষভাবে উমর রাঃ-এর মর্যাদা ও তাঁর অন্তর্দৃষ্টির কথা বলছে। একজন মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো, নেকি, সত্যবাদিতা ও আল্লাহভীতি মানুষের বুঝকে সুন্দর করতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উমর রাঃ-এর প্রখর বুঝ ও মর্যাদা এই বর্ণনায় প্রকাশ পেয়েছে।
- নেক বান্দার সঠিক বিচারবোধ আল্লাহর দান হতে পারে।
- ব্যক্তিগত ধারণাকে শরীয়তের দলীল বানানো ঠিক নয়।
- সাহাবীদের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসের ভাষা সম্মান দিয়ে বোঝা উচিত।
