১/১৩. অধ্যায়ঃ
পুণ্যের পথ অনেক
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٞ ﴾ [البقرة: ٢١٥]অর্থাৎ “তোমরা যে কোন সৎকাজ কর না কেন, আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত।” (সূরা বাক্বারা ২১৫ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ ﴾ [البقرة: ١٩٧]অর্থাৎ “তোমরা যে সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন।” (আল-বাক্বারাহঃ ১৯৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴾ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলেও সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا فَلِنَفۡسِهِۦۖ ﴾ [الجاثية: ١٥]অর্থাৎ “যে সৎকাজ করে, সে নিজ কল্যাণের জন্যই তা করে।” (সূরা জাসিয়াহ ১৫ আয়াত)এ বিষয়ে আয়াত অনেক রয়েছে এবং হাদীসও অগণিত রয়েছে। তার মধ্যে কিছু আমরা বর্ণনা করব।
ফজর ও আসর নামাজ: দুই ঠান্ডা নামাজের জান্নাতি ফজিলত
রিয়াদুস সালেহীন : ১৬/১৩৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৬/১৩৪
السادس عشر: عن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " من صلى البردين دخل الجنة" (متفق عليه).
আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা (অর্থাৎ ফজর ও আসরের) নামায পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’’[১]
সহীহুল বুখারী ৫৭৪, মুসলিম ৬৩৫, আহমাদ ১৬২৮৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৬/১৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই ঠান্ডা নামাজ পড়ে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হাদিসের ব্যাখ্যায় দুই ঠান্ডা নামাজ বলতে ফজর ও আসর বোঝানো হয়েছে। এই দুই সময় মানুষের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দিনের শুরু ও দিনের শেষ অংশে এগুলো আদায় করা হয়। ফজর ঘুমের সময়ের কাছাকাছি, আর আসর দিনের ব্যস্ততার মধ্যে আসে। তাই এই দুই নামাজে যত্ন নেওয়া ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতার পরিচয় দেয়। হাদিসে জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে, তাই ফজর ও আসর নামাজ নিয়মিত আদায় করা মুসলিম জীবনে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। তবে মূল কথা হলো—এই দুই নামাজকে অবহেলা না করা। তাই এই দুই নামাজে নিয়মিত থাকা মুসলিমের দিনের শুরু ও শেষকে আল্লাহর স্মরণে বেঁধে রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজর ও আসর নামাজ বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
- দিনের শুরু ও শেষ অংশে নামাজের প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত।
- দুই ঠান্ডা নামাজ আদায়ের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
- ব্যস্ততা বা ঘুমের কারণে নামাজে অবহেলা করা ঠিক নয়।
