১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴾ (ال عمران: ٩٧অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার (পক্ষে) অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে (সে জেনে রাখুক যে), আল্লাহ জগতের উপর নির্ভরশীল নন। (সূরা আলে ইমরান ৯৭ আয়াত)
নারীর উত্তম জিহাদ হিসেবে মাবরূর হজ্জের ফজিলত
রিয়াদুস সালেহীন : ৬/১২৮৪
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১২৮৪
وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، نَرَى الجِهَادَ أَفْضَلَ العَمَلِ، أَفَلاَ نُجَاهِدُ ؟ فَقَالَ: «لَكُنَّ أَفْضَلُ الجِهَادِ: حَجٌّ مَبْرُورٌ». رواه البخاري
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, একদা আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করাকে সর্বোত্তম কাজ মনে করি, তাহলে কি আমরা জিহাদ করব না?’ তিনি বললেন, “তোমাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হচ্ছে ’মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী) [১]
সহীহুল বুখারী ১৫২০, ১৮৬১, ২৭৮৪, ২৮৭৫, ২৮৭৬, নাসায়ী ২৬২৮, ইবনু মাজাহ ২৯০১১২৮৫.
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞাসা করেন, তারা আল্লাহর পথে জিহাদকে সর্বোত্তম কাজ মনে করেন, তাহলে কি তারা জিহাদ করবেন না? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাদের জন্য সর্বোত্তম জিহাদ হলো মাবরূর হজ্জ। এই কথায় নারীদের জন্য হজ্জের বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পায়। হাদিসটি কোনো সাধারণ দাবি নয়; বরং নির্দিষ্ট প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর। এখানে মাবরূর হজ্জ বলতে বিশুদ্ধ, গ্রহণযোগ্য এবং পাপমুক্ত হজ্জ বোঝায়। তাই এই হাদিস নারীদের জন্য একটি বড় আশা ও উৎসাহ: আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সঠিকভাবে হজ্জ পালন করাও বড় ত্যাগ ও ইবাদত। হজ্জের ফজিলত এখানে জিহাদের মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীদের জন্য মাবরূর হজ্জের বিশেষ মর্যাদা আছে।
- হজ্জে শুদ্ধতা থাকলে তা বড় ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।
- ইবাদতের মূল্য প্রশ্ন ও অবস্থার আলোকে বুঝতে হয়।
