৯/২১০. অধ্যায়ঃ
জুমার দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
জুমার জন্য গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া, এ দিনে দো’আ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পড়া ও এ দিনের কোন এক সময়ে দো’আ কবুল হওয়ার বিবরণ এবং জুমার পর বেশী বেশী মহান আল্লাহর যিকির করা মুস্তাহাবমহান আল্লাহ বলেছেন,قَالَ الله تَعَالَى: ﴿فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾ (الجمعة: ١٠অর্থাৎ অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআ ১০ আয়াত)
জুমা ত্যাগের সতর্কতা: উদাসীনতা থেকে বাঁচার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১১৫৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১১৫৭
وَعَنْه، وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّهُمَا سَمِعَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُوْلُ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ: «لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الغَافِلِينَ». رواه مسلم
আবূ হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর কাঠের মিম্বারের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, “লোকেরা যেন জুমআ ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।” (মুসলিম)[১]
মুসলিম ৮৬৫, নাসায়ী ১৩৭০, ইবনু মাজাহ ৭৯৪, ১১২৭, আহমাদ ২১৩৩, ২২৯০, ৩০৮৯, ৫৫৩৫, দারেমী ১৫৭০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১১৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁর কাঠের মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে মানুষকে জুমা ত্যাগ করা থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, লোকেরা যেন জুমা ছেড়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে। হাদিসটির ভাষা কঠোর, তাই ব্যাখ্যাতেও এর গুরুত্ব কমিয়ে বলা যায় না। তবে এটিকে ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং জুমার নামাজের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগানোর জন্য বোঝা ভালো। মূল কীওয়ার্ড হলো জুমা ত্যাগের শাস্তি, জুমার নামাজ না পড়া, অন্তরে মোহর, জুমার গুরুত্ব। হাদিসটি নিয়মিত জুমায় উপস্থিত থাকার গুরুত্ব এবং ইচ্ছাকৃত অবহেলা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমা ত্যাগ করা থেকে বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ এসেছে।
- জুমার বিষয়ে অবহেলা মানুষকে উদাসীনতার দিকে নিতে পারে।
- জুমার নামাজের গুরুত্ব হাদিসে শক্ত ভাষায় বোঝানো হয়েছে।
- মিম্বার থেকে দেওয়া সতর্কতা বিষয়টির গুরুত্ব প্রকাশ করে।
