২২/৫৫. অধ্যায়ঃ
মানসূর (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনার পার্থক্য
উসফানে লোকদের সামনে নবী صلى الله عليه وسلم-এর রোজা ভাঙা
সুনানে নাসাঈ : ২২৯১
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ২২৯১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: «سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي رَمَضَانَ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ، ثُمَّ دَعَا بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ نَهَارًا، يَرَاهُ النَّاسُ ثُمَّ أَفْطَرَ»
ইব্ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার রমজান মাসে সফর করেন এবং 'উসফান' নামক স্থানে পৌঁছানো পর্যন্ত সাওম পালন করেন। অতঃপর একটি (দুধের) পাত্র চেয়ে নিয়ে তা থেকে পান করলেন। লোকজন তাঁকে দেখছিল। তারপর সাওম ভেঙে ফেললেন।
[১] মক্কার অদূরে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ২২৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সফর এবং প্রকাশ্যে রোজা ভাঙার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তিনি উসফান পর্যন্ত সাওম পালন করেছিলেন। এরপর একটি পাত্র চেয়ে দিনের বেলায় তা থেকে পান করেন। বর্ণনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে, লোকেরা তাঁকে দেখছিল। তারপর তিনি রোজা ভেঙে দেন। এই প্রকাশ্য আমল সফরকারীদের জন্য রোজা ভাঙার সুযোগকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করে দেয়। তিনি সফরের শুরু থেকেই রোজা না রেখে বের হননি; বরং একটি পর্যায় পর্যন্ত রোজা রেখেছেন। পরে দিনের মধ্যেই তা ভেঙেছেন। এতে সফরের রোজা সম্পর্কে বাস্তব নমনীয়তা দেখা যায়। তবে হাদিসে পানীয়টির ধরন বা রোজা ভাঙার নির্দিষ্ট কারণ বিস্তারিত বলা হয়নি। তাই মূল পাঠের বাইরে অতিরিক্ত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم রমজানের সফরে উসফান পর্যন্ত রোজা রেখেছিলেন।
- তিনি দিনের বেলায় লোকদের সামনে পান করে রোজা ভাঙেন।
- সফরের রোজা ভাঙার সুযোগ প্রকাশ্য আমলের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে।
- বর্ণনায় না থাকা কারণ বা তথ্য নিজে থেকে যোগ করা উচিত নয়।
