৫৬/৯. অধ্যায়ঃ
কয়েকজনের গুনাহের কারণে সকলের ভোগান্তি
প্রকাশ্য পাপ সম্পর্কে হাদিস: সমাজের জন্য বড় সতর্কতা
মুয়াত্তা ইমাম মালিক : ১৮০৫
মুয়াত্তা ইমাম মালিকহাদিস নম্বর ১৮০৫
و حَدَّثَنِي مَالِك عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي حَكِيمٍ أَنَّهُ سَمِعَ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ يَقُولُ كَانَ يُقَالُ إِنَّ اللهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى لَا يُعَذِّبُ الْعَامَّةَ بِذَنْبِ الْخَاصَّةِ وَلَكِنْ إِذَا عُمِلَ الْمُنْكَرُ جِهَارًا اسْتَحَقُّوا الْعُقُوبَةَ كُلُّهُمْ
উমার ইব্নু আবদুল আযীয (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিশেষ লোকের গুনাহের কারণে আল্লাহ্ তা‘আলা জনসাধারণকে আযাব দেন না। তবে পাপাচার যদি প্রকাশ্যে হতে থাকে, তখন সকলেই আযাবের যোগ্য হয়। [১] (হাদীসটি ইমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করেছেন)
[১] যে পাপাচারে লিপ্ত হয়েছে সে তার পাপের দরুন আযাব ভোগ করবে। আর যারা পাপাচারে লিপ্ত হয়নি তারা আযাব ভোগ করবে এইজন্য যে, তারা পাপাচারে বাধা দেয়নি।
মুয়াত্তা ইমাম মালিক হাদিস ১৮০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, বিশেষ লোকের গুনাহের কারণে আল্লাহ সাধারণ মানুষকে আযাব দেন না। কিন্তু যখন পাপাচার প্রকাশ্যে হতে থাকে, তখন সবাই শাস্তির যোগ্য হয়ে যায়। এখানে প্রকাশ্য পাপের ক্ষতি খুব স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। ব্যক্তিগত ভুল এক বিষয়, আর সমাজে প্রকাশ্যে অন্যায় ছড়িয়ে পড়া আরেক বিষয়। প্রকাশ্য পাপ যখন সাধারণ হয়ে যায়, তখন মানুষ পাপকে খারাপ ভাবতে কম শুরু করে। ফলে সমাজের নৈতিক অবস্থা দুর্বল হয়ে যায়। এই হাদিস আমাদের শেখায়, পাপকে প্রকাশ্যে ছড়ানো, স্বাভাবিক করা বা তাতে চুপচাপ সন্তুষ্ট থাকা বিপজ্জনক। মুমিনের উচিত নিজের গুনাহের ব্যাপারে ভয় করা এবং সমাজে প্রকাশ্য অন্যায় ছড়িয়ে পড়লে অন্তত সেটাকে খারাপ মনে করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিশেষ লোকের গুনাহের দায় সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি পড়ে না।
- প্রকাশ্য পাপ সমাজের জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
- অন্যায়কে স্বাভাবিক মনে করা নৈতিক দুর্বলতার লক্ষণ।
- নিজে পাপ থেকে বাঁচা এবং প্রকাশ্য পাপকে খারাপ জানা জরুরি।
