৪/৩৪. অধ্যায়ঃ
যুহ্র ও ‘আস্র-এর সলাতের কিরাআত
যুহর ও আসরের কিয়াম: নবীজির সালাতের সময়ের পরিমাণ
সহীহ মুসলিম : ৯০১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৯০১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ جَمِيعًا عَنْ هُشَيْمٍ، - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، - عَنْ مَنْصُورٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نَحْزِرُ قِيَامَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ قَدْرَ قِرَاءَةِ الم تَنْزِيلُ السَّجْدَةِ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الأُخْرَيَيْنِ قَدْرَ النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ وَحَزَرْنَا قِيَامَهُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ الأُولَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى قَدْرِ قِيَامِهِ فِي الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ وَفِي الأُخْرَيَيْنِ مِنَ الْعَصْرِ عَلَى النِّصْفِ مِنْ ذَلِكَ . وَلَمْ يَذْكُرْ أَبُو بَكْرٍ فِي رِوَايَتِهِ الم تَنْزِيلُ وَقَالَ قَدْرَ ثَلاَثِينَ آيَةً .
আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা যুহর ও আসরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিয়ামের (দাঁড়ানোর) পরিমাণ নিরূপণ করার চেষ্টা করতাম। যুহরের প্রথম দুই রাকাতে তাঁর কিয়ামের পরিমাণ ছিল সূরা “আলিফ, লাম, মীম, তানযীলুস সিজদা” পাঠ করার পরিমাণ সময়।তার পরবর্তী দুই রাকাতে আমরা তাঁর কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি ঐ সূরার অর্ধেক পাঠ করার পরিমাণ সময়। আমরা আসরের দুই রাকাতে তাঁর কিয়ামের পরিমাণ নিরূপণ করেছি যুহরের শেষের দুই রাকাতে তাঁর কিয়ামের পরিমাণ সময়।আর আসরের শেষ দুই রাকাতে তাঁর কিয়ামের পরিমাণ ছিল- প্রথম দুই রাকাতের অর্ধেক পরিমাণ সময়। আবু বাকর ইবনু আবু শাইবাহ তাঁর বর্ণনায় সূরা “আলিফ লাম মীম তানযীলের” উল্লেখ করেননি। তিনি কিয়ামের পরিমাণ ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাণ সময় উল্লেখ করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৯৬, ইসলামীক সেন্টারঃ ৯০৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, সাহাবীরা যুহর ও আসরের সালাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কিয়ামের পরিমাণ অনুমান করতেন। যুহরের প্রথম দুই রাকাতে তাঁর দাঁড়ানোর সময় ছিল সূরা আলিফ লাম মীম তানযীলুস সিজদা পাঠ করার মতো। পরবর্তী দুই রাকাত ছিল তার প্রায় অর্ধেক। আসরের প্রথম দুই রাকাতের কিয়াম ছিল যুহরের শেষ দুই রাকাতের মতো, আর আসরের শেষ দুই রাকাত ছিল তার অর্ধেকের মতো। অন্য বর্ণনায় সূরার নামের বদলে ত্রিশ আয়াত পাঠের পরিমাণ বলা হয়েছে। এই হাদিসে যুহর আসরের কিয়ামের পরিমাণ, সালাতে কিরাআতের দৈর্ঘ্য এবং প্রথম-শেষ রাকাতের পার্থক্য বোঝা যায়। এটি নবীজির সালাতের ধরন বুঝতে সহায়ক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের সময় ও কিয়াম লক্ষ্য করতেন।
- যুহরের প্রথম দুই রাকাত তুলনামূলক দীর্ঘ ছিল।
- শেষের রাকাতগুলো প্রথম রাকাতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত হওয়ার বর্ণনা এসেছে।
- সালাতের পদ্ধতি শেখার জন্য সাহাবীদের পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
