১/২. অধ্যায়ঃ
সলাতের বর্ণনা যা ইসলামের একটি রুকন
ফরজ আমলে অটল থাকার শিক্ষা ও সফলতার আশা
সহীহ মুসলিম : ৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৯
حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ نَحْوَ حَدِيثِ مَالِكٍ غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَفْلَحَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ " . أَوْ " دَخَلَ الْجَنَّةَ وَأَبِيهِ إِنْ صَدَقَ " .
তালহাহ্ ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ হতে বর্ণিতঃ
তিনি হাদীসটি নবী (ﷺ) থেকে ইমাম মালিকের বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এ হাদীসের শেষাংশে বলেছেন, ‘অতঃপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “সে সফলকাম হয়েছে তার বাবার কসম! যদি সে সত্য কথা বলে থাকে।” অথবা তিনি (ﷺ) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করেছে, যদি সে সত্য কথা বলে থাকে।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯, ইসলামীক সেন্টারঃ ৯[১৮] তাল্হাহ্ ইবনু ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাবার নামে কসম খাওয়া প্রমাণিত হচ্ছে অথচ আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাবার নামে কসম করতে নিষেধ করেছেন। কসম আল্লাহ্র নামে করতে হয়।উত্তরে বলা হয় যে, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কসম খাওয়া এটা অভ্যাস মোতাবেক। কেননা আরবের লোকজন এভাবে কসম খাওয়ার অভ্যস্ত ছিলেন। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটা কারও সম্মানের জন্য কসম করেননি বা তখন এভাবে কসম খাওয়া নিষেধ হয়নি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের নামে কসম করা এজন্য নিষেধ যে, আল্লাহর সামনে কারও স্থান না দেয়া। কতক ‘আলিমের নিকট এটা ছিল আল্লাহ ভিন্ন অন্যের নামে কসম নিষিদ্ধ হবার পূর্বের ঘটনা। (নাবাবী)
সহীহ মুসলিম হাদিস ৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি আগের হাদিসের অনুরূপ, তবে শেষ অংশে কিছু অতিরিক্ত শব্দ এসেছে। এখানে বলা হয়েছে, লোকটি যদি সত্য কথা বলে থাকে, তবে সে সফল হয়েছে; অথবা সে জান্নাতে প্রবেশ করেছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—মানুষ যখন ইসলামের ফরজ আমল সম্পর্কে জানে এবং তা কম না করে পালনের অঙ্গীকার করে, তখন সে বড় কল্যাণের পথে থাকে। এখানে অতিরিক্ত দাবি করা হয়নি যে শুধু মুখের কথা যথেষ্ট; বরং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথায় শর্ত আছে—যদি সে সত্য বলে থাকে। তাই ফরজ সালাত, রমজানের সাওম, যাকাত এবং ইসলামের নির্ধারিত দায়িত্ব বাস্তবে পালন করা জরুরি। এই হাদিস সত্যবাদিতা, অঙ্গীকার রক্ষা এবং ফরজ আমলের গুরুত্বকে সুন্দরভাবে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফরজ আমলের অঙ্গীকার শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হয়।
- সত্যবাদিতা একজন মুমিনের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সফলতার কথা বলেছেন শর্তসহ—যদি সে সত্য বলে।
- ইসলামের মৌলিক দায়িত্বকে হালকা করে দেখা ঠিক নয়।
