৪/২২. অধ্যায়ঃ
ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া
সালাতে তাসবিহ ও হাততালি: ইমামকে সতর্ক করার নিয়ম
সহীহ মুসলিম : ৮৩৫
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮৩৫
حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ لِيُصْلِحَ بَيْنَهُمْ فَحَانَتِ الصَّلاَةُ فَجَاءَ الْمُؤَذِّنُ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ أَتُصَلِّي بِالنَّاسِ فَأُقِيمُ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ فِي الصَّلاَةِ فَتَخَلَّصَ حَتَّى وَقَفَ فِي الصَّفِّ فَصَفَّقَ النَّاسُ - وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاَةِ - فَلَمَّا أَكْثَرَ النَّاسُ التَّصْفِيقَ الْتَفَتَ فَرَأَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَشَارَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنِ امْكُثْ مَكَانَكَ فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَيْهِ فَحَمِدَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى مَا أَمَرَهُ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ اسْتَأْخَرَ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى اسْتَوَى فِي الصَّفِّ وَتَقَدَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَصَلَّى ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ " يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَثْبُتَ إِذْ أَمَرْتُكَ " . قَالَ أَبُو بَكْرٍ مَا كَانَ لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا لِي رَأَيْتُكُمْ أَكْثَرْتُمُ التَّصْفِيقَ مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ وَإِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ " .
সাহল ইবনু সা'দ আস্ সা'ইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বনি আমর ইবন আওফ গোত্রের মধ্যে (তাদের অভ্যন্তরীণ ঝগড়া) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। সালাতের সময় হয়ে আসলো। মুয়াজ্জিন এসে আবু বকর (রাঃ)-কে বলল, আপনি কি লোকদের সালাত আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামত দেই। তিনি বললেন হ্যাঁ।রাবী বলেন, আবু বকর (রাঃ) সালাত আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে গেলেন। তখন লোকেরা সালাত আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবু বকর (রাঃ) সালাতরত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশি তালি বাজাতে লাগল, তিনি এদিকে ফিরে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেলেন। রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো।আবু বকর (রাঃ) তাঁর দু’হাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী (ﷺ) সামনে অগ্রসর হয়ে সালাত আদায় করালেন। সালাত সমাপ্ত করে তিনি বললেন, হে আবু বকর! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল?আবু বকর (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপস্থিতিতে আবু কুহাফার পুত্রের জন্য সালাতে ইমামতি করা কক্ষনো মানায় না। রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সালাতে কোনো কিছু ঘটলে সে ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে। সে যখন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল তখনই ইমামের কিছু আকর্ষণ করা হলো। মহিলারাই কেবল ‘তাসফীহ’ (হাততালি) দিবে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৩১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৮৪৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮৩৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতের মধ্যে ইমামকে সতর্ক করার নিয়ম স্পষ্টভাবে এসেছে। রসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বনি আমর ইবন আওফ গোত্রের বিবাদ মীমাংসা করতে যান। সালাতের সময় হলে আবু বকর (রাঃ) লোকদের সালাত পড়াতে শুরু করেন। পরে নবী صلى الله عليه وسلم এসে কাতারে দাঁড়ান। লোকেরা তাঁকে দেখে হাততালি দিয়ে সংকেত দিতে থাকে। আবু বকর (রাঃ) প্রথমে মনোযোগ সরাননি, পরে বেশি তালি শুনে তাকিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-কে দেখেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে জায়গায় থাকতে ইশারা করেন, কিন্তু আবু বকর (রাঃ) বিনয়ের কারণে পিছিয়ে যান এবং নবী صلى الله عليه وسلم সামনে গিয়ে সালাত পড়ান। শেষে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, সালাতে কারো কিছু ঘটলে সে সুবহানাল্লাহ বলবে; আর হাততালি নারীদের জন্য। এই হাদিস সালাতে তাসবিহ, তাসফিক, ইমামের প্রতি সতর্কতা এবং বিনয়ের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে পুরুষের সতর্ক করার পদ্ধতি হলো সুবহানাল্লাহ বলা।
- হাদিসে নারীদের জন্য হাততালির কথা এসেছে।
- আবু বকর (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে ইমামতি করতে বিনয় দেখিয়েছেন।
- সালাতের মধ্যে প্রয়োজন হলে ইমামকে নিয়ম মেনে সতর্ক করা যায়।
