১/২০. অধ্যায়ঃ
মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানের অঙ্গ। ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি হয়। ভালো কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজের নিষেধ করা ওয়াজিব
মন্দ কাজ দেখলে কী করব: হাত, মুখ ও অন্তরের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৮১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، كِلاَهُمَا عَنْ قَيْسِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ، - وَهَذَا حَدِيثُ أَبِي بَكْرٍ - قَالَ أَوَّلُ مَنْ بَدَأَ بِالْخُطْبَةِ يَوْمَ الْعِيدِ قَبْلَ الصَّلاَةِ مَرْوَانُ فَقَامَ إِلَيْهِ رَجُلٌ فَقَالَ الصَّلاَةُ قَبْلَ الْخُطْبَةِ . فَقَالَ قَدْ تُرِكَ مَا هُنَالِكَ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ أَمَّا هَذَا فَقَدْ قَضَى مَا عَلَيْهِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ " .
তারিক ইবনু শিহাব (আবূ বাক্র ইবনু আবী শাইবার হাদীসে) হতে বর্ণিতঃ
মারওয়ান ঈদের দিন সালাতের পূর্বে খুতবা দেয়ার (বিদআতি) প্রথা প্রচলন করে। এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘‘খুতবার আগে সালাত’’ (সম্পন্ন করুন)। মারওয়ান বললেন, এখন থেকে সে নিয়ম পরিত্যাগ করা হলো।সাথে সাথে আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ) উঠে বললেন, ঐ ব্যক্তি তার কর্তব্য পালন করেছে। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে, তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৮৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি ঘটনার মাধ্যমে গর্হিত কাজ দেখলে মুমিনের করণীয় শেখানো হয়েছে। মারওয়ান ঈদের দিনে সালাতের আগে খুতবা শুরু করলে একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে স্মরণ করিয়ে দেন, খুতবার আগে সালাত হওয়া উচিত। আবু সাঈদ আল খুদরি (রাঃ) বলেন, ঐ ব্যক্তি তার কর্তব্য পালন করেছে। এরপর তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী বলেন: কেউ মন্দ কাজ দেখলে সামর্থ্য থাকলে হাতে পরিবর্তন করবে; না পারলে মুখে বলবে; সেটাও না পারলে অন্তরে অপছন্দ করবে। তবে অন্তরের অবস্থানকে ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক বলা হয়েছে। হাদিসটি মন্দ প্রতিরোধ, সত্য কথা বলা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মন্দ কাজ দেখলে সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব আছে।
- শক্তি না থাকলে মুখে সত্য বলা একটি পথ।
- মুখেও না পারলে অন্তরে অপছন্দ রাখা ঈমানের অংশ।
- দায়িত্ব পালনে সামর্থ্য ও অবস্থার বিবেচনা আছে।
