১/১৯. অধ্যায়ঃ
প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করা, কল্যাণ সাধন ব্যতীত নিরবতা অবলম্বন করা এবং এগুলো ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা
ঈমানদারের তিন আচরণ: প্রতিবেশী, মেহমান ও কথা
সহীহ মুসলিম : ৮০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৮০
حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ، - قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، - عَنْ عَمْرٍو، أَنَّهُ سَمِعَ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ، يُخْبِرُ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ " .
আবূ শুরায়হ্ আল খুযা‘ঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা নীরবতা অবলম্বন করে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৮৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমানের সাথে তিনটি আচরণকে যুক্ত করেছেন। প্রথমত, প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করা। এটি ঘর, সমাজ ও সম্পর্ককে শান্ত রাখে। দ্বিতীয়ত, মেহমানকে সম্মান করা। এতে আতিথেয়তা, ভদ্রতা ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা বোঝা যায়। তৃতীয়ত, ভালো কথা বলা বা নীরব থাকা। এ শিক্ষা আমাদের কথা বলার আগে থামতে শেখায়। কারণ অপ্রয়োজনীয় বা কষ্টদায়ক কথা সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে। হাদিসটি খুব বাস্তব: ঈমানের সৌন্দর্য দেখা যায় প্রতিবেশীর সাথে আচরণে, মেহমানের সম্মানে এবং মুখের নিয়ন্ত্রণে। তাই এই তিনটি কাজ দৈনন্দিন মুসলিম জীবনের সহজ আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করা ঈমানি গুণ।
- মেহমানকে সম্মান করা সুন্দর সামাজিক আচরণ।
- ভালো কথা না হলে নীরব থাকা নিরাপদ।
- ঈমান মানুষের ঘর ও সমাজের আচরণে প্রভাব ফেলে।
