৪/১৬. অধ্যায়ঃ
সলাতে তাশাহহুদ পাঠ করা
জামাতে সালাত: ইমামের অনুসরণ ও তাশাহুদ
সহীহ মুসলিম : ৭৯০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৯০
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ الأُمَوِيُّ - وَاللَّفْظُ لأَبِي كَامِلٍ - قَالُوا حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ يُونُسَ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ حِطَّانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيِّ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ صَلاَةً فَلَمَّا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أُقِرَّتِ الصَّلاَةُ بِالْبِرِّ وَالزَّكَاةِ - قَالَ - فَلَمَّا قَضَى أَبُو مُوسَى الصَّلاَةَ وَسَلَّمَ انْصَرَفَ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ ثُمَّ قَالَ أَيُّكُمُ الْقَائِلُ كَلِمَةَ كَذَا وَكَذَا فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ لَعَلَّكَ يَا حِطَّانُ قُلْتَهَا قَالَ مَا قُلْتُهَا وَلَقَدْ رَهِبْتُ أَنْ تَبْكَعَنِي بِهَا . فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ أَنَا قُلْتُهَا وَلَمْ أُرِدْ بِهَا إِلاَّ الْخَيْرَ . فَقَالَ أَبُو مُوسَى أَمَا تَعْلَمُونَ كَيْفَ تَقُولُونَ فِي صَلاَتِكُمْ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطَبَنَا فَبَيَّنَ لَنَا سُنَّتَنَا وَعَلَّمَنَا صَلاَتَنَا فَقَالَ " إِذَا صَلَّيْتُمْ فَأَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمْ أَحَدُكُمْ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَإِذَا قَالَ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ فَقُولُوا آمِينَ . يُجِبْكُمُ اللَّهُ فَإِذَا كَبَّرَ وَرَكَعَ فَكَبِّرُوا وَارْكَعُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَرْكَعُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ . فَقُولُوا اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ . يَسْمَعُ اللَّهُ لَكُمْ فَإِنَّ اللَّهَ تَبَارَكَ وَتَعَالَى قَالَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ . وَإِذَا كَبَّرَ وَسَجَدَ فَكَبِّرُوا وَاسْجُدُوا فَإِنَّ الإِمَامَ يَسْجُدُ قَبْلَكُمْ وَيَرْفَعُ قَبْلَكُمْ " . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " فَتِلْكَ بِتِلْكَ . وَإِذَا كَانَ عِنْدَ الْقَعْدَةِ فَلْيَكُنْ مِنْ أَوَّلِ قَوْلِ أَحَدِكُمُ التَّحِيَّاتُ الطَّيِّبَاتُ الصَّلَوَاتُ لِلَّهِ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ " .
হিততান ইবনু ‘আবদুল্লাহ আর্ রাকাশী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ)-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। তিনি যখন তাশাহহুদে বসলেন, জামাতের মধ্য হতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, ‘সালাত পুণ্য ও যাকাতের সাথে ফরজ করা হয়েছে’। রাবী বললেন, আবূ মূসা (রাঃ) সালাত শেষ করে সালাম ফিরানোর পর বললেন, “তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে?” লোকেরা নীরব থাকল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তোমাদের মধ্যে কে এরূপ বলেছে?” এবারও লোকেরা নীরব থাকল। অতঃপর তিনি বললেন, “হে হিতান! সম্ভবত তুমিই এটা বলেছ।” তিনি (হিতান) বললেন, “আমি তা বলিনি। অবশ্য আমার ভয় হচ্ছিল যে আপনি আমার উপর এজন্যে রেগে যান কি না!” এমন সময় লোকদের মধ্যে হতে এক ব্যক্তি বলল, “আমি এরুপ বলেছি। আমি এর মাধ্যমে কল্যাণই আশা করেছিলাম।”আবূ মূসা (রাঃ) বললেন, “নিজেদের সালাতের মধ্যে কী বলতে হবে তা কি তোমরা জান না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দিলেন, তিনি আমাদেরকে নিয়মকানুন স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন এবং আমাদেরকে সালাত আদায় করার শিক্ষা দিয়েছেন। তা হচ্ছেঃ তোমরা যখন সালাত আদায় করবে, তোমাদের লাইনগুলো ঠিক করে নিবে। অতঃপর তোমাদের কেউ তোমাদের ইমামতি করবে। সে যখন তাকবির বলবে, তোমরাও তাকবির বলবে। সে যখন ‘গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায্ যাল্লীন’ বলবে তোমরা তখন ‘আমীন’ বলবে। আল্লাহ তোমাদের ডাকে সাড়া দিবেন। সে যখন তাকবির বলে রুকুতে যাবে, তোমরাও তাকবির বলে রুকুতে যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে রুকুতে যাবে এবং তোমাদের আগে রুকু থেকে উঠবে।”রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ “এটা ওটার বিনিময়ে, তথা ইমাম যেমন রুকু সিজদার আগে যাবে, তেমনি আগে উঠবে। সে যখন ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলবে, তোমরা তখন ‘আল্লাহুম্মা রব্বানা-লাকাল হামদ’ বলবে, আল্লাহ তোমাদের এই কথা শুনবেন। কেননা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী (ﷺ) এর ভাষায় বলেছেনঃ ‘সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ’ (আল্লাহ তাঁর প্রশংসাকারীর প্রশংসা শুনেন)। সে যখন তাকবির বলবে এবং সিজ্দায় যাবে, তোমরাও তার পরপর তাকবীর বলে সিজ্দায় যাবে। কেননা, ইমাম তোমাদের আগে সিজ্দায় যাবে এবং তোমাদের আগে সিজ্দা থেকে উঠবে।”রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেনঃ “তোমাদের তাকবীর ও সিজ্দা ইমামের পরে হবে। যখন তোমরা বৈঠকে বসবে, তোমাদের পাঠ হবেঃ ‘আত্তাহিয়্যাতু তাইয়্যিবাতুস সালাওয়াতু লিল্লাহ, আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকাতুহু, আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াআশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।’ অর্থাৎ- সকল প্রকার পবিত্র ও একান্ত মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতসমূহ আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ হতে শান্তি, রহমত ও বারাকাত নাযিল হোক এবং আমাদের উপর ও আল্লাহর নেককার বান্দাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ইবাদতের যোগ্য নয় এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর দাস ও তাঁর দূত।”
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৮৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭৯৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মূসা আশআরী রাঃ সালাতের ভেতরে কী বলা উচিত এবং কীভাবে ইমামের অনুসরণ করতে হয়, তা নবী صلى الله عليه وسلم-এর শিক্ষা থেকে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের সালাতের নিয়ম স্পষ্ট করে শিখিয়েছেন। জামাতে সালাতে আগে কাতার ঠিক করতে হবে, তারপর ইমাম তাকবীর বললে মুক্তাদীরাও তাকবীর বলবে। ইমাম যখন সূরা ফাতিহার শেষে পড়বেন, তখন আমীন বলতে হবে। ইমাম রুকু ও সিজদায় গেলে মুক্তাদীরাও তার পরপর যাবে। বৈঠকে বসলে তাশাহুদ দিয়ে কথা শুরু করতে বলা হয়েছে। এই হাদিস সালাতের আদব, ইমামের অনুসরণ এবং তাশাহুদের দোয়া—তিনটি বিষয় একসাথে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে সালাতের আগে কাতার ঠিক করা দরকার।
- মুক্তাদী ইমামের আগে নয়, ইমামের অনুসরণ করে রুকু-সিজদা করবে।
- সূরা ফাতিহার শেষে আমীন বলা নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো নিয়মের অংশ।
- বৈঠকে তাশাহুদ দিয়ে শুরু করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
