৫৫/১৮. অধ্যায়ঃ
জাবির (রাযিঃ)-এর দীর্ঘ হাদীস এবং আবুল ইয়াসার-এর ঘটনা
ক্ষুধার কষ্টে আল্লাহর রিজিকের আশা
সহিহ মুসলিম : ৭৪১০
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৪১০
وَشَكَا النَّاسُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجُوعَ فَقَالَ " عَسَى اللَّهُ أَنْ يُطْعِمَكُمْ " . فَأَتَيْنَا سِيفَ الْبَحْرِ فَزَخَرَ الْبَحْرُ زَخْرَةً فَأَلْقَى دَابَّةً فَأَوْرَيْنَا عَلَى شِقِّهَا النَّارَ فَاطَّبَخْنَا وَاشْتَوَيْنَا وَأَكَلْنَا حَتَّى شَبِعْنَا . قَالَ جَابِرٌ فَدَخَلْتُ أَنَا وَفُلاَنٌ وَفُلاَنٌ حَتَّى عَدَّ خَمْسَةً فِي حِجَاجِ عَيْنِهَا مَا يَرَانَا أَحَدٌ حَتَّى خَرَجْنَا فَأَخَذْنَا ضِلَعًا مِنْ أَضْلاَعِهِ فَقَوَّسْنَاهُ ثُمَّ دَعَوْنَا بِأَعْظَمِ رَجُلٍ فِي الرَّكْبِ وَأَعْظَمِ جَمَلٍ فِي الرَّكْبِ وَأَعْظَمِ كِفْلٍ فِي الرَّكْبِ فَدَخَلَ تَحْتَهُ مَا يُطَأْطِئُ رَأْسَهُ .
জাবির (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
অতঃপর লোকেরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে ক্ষুধা নিবারণের ব্যাপারে অভিযোগ করলেন। এ কথা শুনে তিনি বললেন, “শীঘ্রই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে খাদ্য প্রদান করবেন।” অতঃপর আমরা সমুদ্র উপকূলে আসলাম। সমুদ্রের ঢেউ উঠলে একটি মাছ আমাদের সামনে নিপতিত হল। আমরা সমুদ্র তীরে অগ্নি প্রজ্বলিত করে সেটা রান্না করলাম, ভুনা করলাম এবং তৃপ্ত সহকারে ভক্ষণ করলাম। জাবির (রাঃ) বলেন, আমি এবং অমুক অমুকসহ পাঁচজন চোখের গোলাকৃতির মাঝে প্রবেশ করলে আমাদেরকে কেউ দেখছিল না। অতঃপর আমরা তার পাঁজরের বাঁকা হাড়সমূহের একটি হাড় হাতে নিলাম এবং সেটাকে ধনুকের মতো বানিয়ে বৃহৎ যীন পরিহিত অবস্থায় কাফেলার সর্ববৃহৎ উষ্ট্রীতে আরোহণ করতঃ কাফেলার বৃহদাকায় এক লোককে এর তলদেশ দিয়ে প্রবেশ করার জন্য আহ্বান জানালাম। সে এর নিচ দিয়ে মাথা না ঝুঁকিয়ে প্রবেশ করে বেরিয়ে আসলো।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭২৪০, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭২৯৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ৭৪১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের ক্ষুধার কষ্ট ও আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক পাওয়ার ঘটনা এসেছে। লোকেরা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে ক্ষুধার অভিযোগ করলে তিনি বলেন, শিগগির আল্লাহ তোমাদের খাদ্য দেবেন। এরপর তারা সমুদ্র উপকূলে পৌঁছালে সমুদ্রের ঢেউ একটি বিশাল প্রাণী বা মাছ তাদের সামনে ফেলে দেয়। তারা সেটি রান্না ও ভুনা করে খায় এবং তৃপ্ত হয়। জাবির রাঃ মাছটির বড়ত্ব বোঝাতে বলেন, কয়েকজন তার চোখের গোল অংশে ঢুকেছিলেন, আর তার পাঁজরের হাড় এত বড় ছিল যে বড় উট ও বড় মানুষ তার নিচ দিয়ে মাথা না ঝুঁকিয়েই পার হতে পারে। হাদিসটি ক্ষুধার সময় ধৈর্য, আল্লাহর রিজিকের আশা এবং প্রাপ্ত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষুধা ও কষ্টের সময় আল্লাহর রিজিকের আশা রাখা উচিত।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের হতাশ না করে আল্লাহর সাহায্যের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।
- প্রাপ্ত খাদ্যকে নেয়ামত মনে করে ব্যবহার করা উচিত।
- অভাবের পর স্বস্তি আসতে পারে—তবে তা আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল।
