৫৫/১৪. অধ্যায়ঃ
অযাচিত প্রশংসার মধ্যে এবং প্রশংসার ফলে যদি প্রশংসিত ব্যক্তির বিভ্রান্তে পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে তা নিষিদ্ধ
ভাইয়ের প্রশংসা করলে যেভাবে বলা উচিত
সহিহ মুসলিম : ৭৩৯২
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৩৯২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَبَلَةَ بْنِ أَبِي رَوَّادٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ شُعْبَةُ حَدَّثَنَا عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ عَبْدِ، الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ ذُكِرَ عِنْدَهُ رَجُلٌ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا مِنْ رَجُلٍ بَعْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ مِنْهُ فِي كَذَا وَكَذَا . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " وَيْحَكَ قَطَعْتَ عُنُقَ صَاحِبِكَ " . مِرَارًا يَقُولُ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنْ كَانَ أَحَدُكُمْ مَادِحًا أَخَاهُ لاَ مَحَالَةَ فَلْيَقُلْ أَحْسِبُ فُلاَنًا إِنْ كَانَ يُرَى أَنَّهُ كَذَلِكَ وَلاَ أُزَكِّي عَلَى اللَّهِ أَحَدًا " .
আবূ বাকরাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ)-এর কাছে এক লোকের ব্যাপারে আলোচনা হয়। তখন অন্য এক লোক বলল, হে আল্লাহর রসূল! অমুক অমুক কাজের বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পর তার চেয়ে উত্তম আর কোন লোক নেই। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমার ধ্বংস হোক, তুমি তো তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেলেছ। তিনি এ কথাটি বার বার বললেন। অতঃপর বললেন, তোমাদের কারো যদি তার ভাইয়ের প্রশংসা করতেই হয় তবে সে যেন বলে অমুকের ব্যাপারে আমার ধারণা যে, সে এমন (বাস্তবে হলেই এ কথাটি বলতে পারবে), তবে আল্লাহর সম্মুখে আমি কাউকে দোষমুক্ত ঘোষণা করছি না (অর্থাৎ আমি আল্লাহর সামনে কাউকে পবিত্র করতে পারি না)।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭২৩১, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭২৮৪
সহিহ মুসলিম হাদিস ৭৩৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় দেখা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে একজন লোকের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল। একজন তাকে খুব উঁচু করে প্রশংসা করল। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বললেন, তুমি তোমার সঙ্গীর গর্দান কেটে ফেলেছ। তিনি কথাটি বারবার বলেন, যাতে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। এরপর তিনি প্রশংসার নিরাপদ ভাষা শিখিয়ে দেন। যদি প্রশংসা করতেই হয়, তবে বলতে হবে, আমার ধারণা অমুক এমন; যদি বাস্তবে সে তেমন বলে জানা থাকে। কিন্তু আল্লাহর সামনে কাউকে পবিত্র ঘোষণা করা যাবে না। এখানে অতিরিক্ত প্রশংসা, ভাইয়ের প্রশংসা এবং ভাষার সতর্কতা—এই তিনটি বিষয় স্পষ্ট। মানুষের ভালো দিক বলা যায়, কিন্তু চূড়ান্ত সনদ দেওয়া যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রশংসা বাস্তব জানা বিষয়ের উপর হওয়া উচিত।
- অতিরিক্ত প্রশংসা মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
- কারও অন্তরের পবিত্রতা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলা ঠিক নয়।
- ভালো কথা বললেও ভাষায় বিনয় রাখা দরকার।
