৫৪/২৭. অধ্যায়ঃ
কিয়ামাত সন্নিকটবর্তী
যুবকের উদাহরণে কেয়ামতের প্রশ্নের জবাব
সহীহ মুসলিম : ৭৩০১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৩০১
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - حَدَّثَنَا مَعْبَدُ بْنُ هِلاَلٍ الْعَنَزِيُّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هُنَيْهَةً ثُمَّ نَظَرَ إِلَى غُلاَمٍ بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ أَزْدِ شَنُوءَةَ فَقَالَ " إِنْ عُمِّرَ هَذَا لَمْ يُدْرِكْهُ الْهَرَمُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ " . قَالَ قَالَ أَنَسٌ ذَاكَ الْغُلاَمُ مِنْ أَتْرَابِي يَوْمَئِذٍ .
আনাস ইবনু মালিক (রাযি:) হতে বর্ণিতঃ
এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রশ্ন করলেন যে, কেয়ামত কবে সংঘটিত হবে? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কিছুক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করেন। এরপর তিনি সম্মুখস্থ আযদ গোত্রের এক যুবকের প্রতি তাকালেন, বস্তুতঃ আযদ শানুআ একটি শাখা গোত্র। অতঃপর তিনি বললেন, “এ ছোট ছেলেটি যদি দীর্ঘায়ু লাভ করে তবে তার বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার আগেই কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে।” আনাস (রাঃ) বলেন, তখন এ বালক আমার সমবয়স্ক ছিল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭১৪৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭১৯৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৩০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন লোক নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করল, কেয়ামত কবে হবে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন। তারপর সামনে থাকা আযদ গোত্রের এক যুবকের দিকে তাকিয়ে বললেন, সে যদি দীর্ঘায়ু পায়, তবে বার্ধক্যে পৌঁছার আগেই কেয়ামত সংঘটিত হবে। আনাস রা. জানান, সেই বালক তখন তাঁর সমবয়সী ছিল। এই বর্ণনায় আমরা দেখি, নবী صلى الله عليه وسلم প্রশ্নের জবাবে মানুষকে নিজের সময়ের কাছাকাছি সতর্কতার দিকে ফেরালেন। কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি; বরং নিজের জীবন, মৃত্যু ও প্রস্তুতির কথা ভাবতে বলা হয়েছে। তাই এই হাদিস কৌতূহলের বদলে আমলের দিকে মন দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم কখনো নীরব থেকে ভেবে জবাব দিয়েছেন।
- কেয়ামতের প্রশ্ন মানুষকে নিজের প্রস্তুতির দিকে ফেরায়।
- জীবনের সময় সীমিত—এ কথা মনে রাখা দরকার।
- দিন-তারিখ জানার চেষ্টা আমলের বিকল্প নয়।
