১/১৬. অধ্যায়ঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে স্ত্রী, পুত্র, পরিজন ও পিতামাতা তথা সকলের চাইতে অধিক ভালোবাসা ওয়াজিব এবং যে ব্যক্তি এরূপ ভালোবাসবে না তার ঈমান নেই বলা হয়েছে
ঈমান ও রাসূলপ্রেম: সন্তান-পিতা-মাতার চেয়েও বেশি
সহীহ মুসলিম : ৭৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ قَتَادَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَلَدِهِ وَوَالِدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ " .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কেউই ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার নিকট তার সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং অন্যান্য লোকদের চাইতে অধিকতর প্রিয় না হব।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭৫, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ তিনি তার কাছে সন্তান, পিতা-মাতা এবং সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হন। হাদিসটি মানুষের সবচেয়ে কাছের সম্পর্কগুলোর কথা উল্লেখ করে বোঝায় যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ভালোবাসা ঈমানের গভীর বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। সন্তান ও পিতা-মাতা মানুষের হৃদয়ের খুব কাছের। তবু নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি ভালোবাসা এগুলোর ওপর স্থান পায়, কারণ তাঁর মাধ্যমেই আল্লাহর নির্দেশ ও হিদায়াত আমাদের কাছে এসেছে। এই ভালোবাসা অন্ধ আবেগ নয়; বরং তাঁর কথা মানা, তাঁর আদর্শকে সম্মান করা এবং নিজের জীবনকে তাঁর শিক্ষার দিকে নেওয়ার চেষ্টা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ভালোবাসা ঈমানের সাথে সরাসরি যুক্ত।
- সন্তান ও পিতা-মাতা প্রিয় হলেও নবীর মর্যাদা সর্বোচ্চ স্থানে রাখা দরকার।
- রাসূলপ্রেম মানে তাঁর শিক্ষা মেনে চলার চেষ্টা।
- হৃদয়ের ভালোবাসা আচরণে প্রভাব ফেলে।
