৫৪/২৩. অধ্যায়ঃ
দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ এবং দুনিয়াতে তার অবস্থান, ‘ঈসা (আ:)-এর অবতরণ এবং তাঁর দ্বারা দাজ্জালকে হত্যা, দুনিয়া থেকে ভাল লোক এবং ঈমানের বিদায় গ্রহণ এবং নিকৃষ্ট লোকেদের অবস্থান, তাদের দ্বারা মূর্তিপূজা, শিঙ্গার ফুঁৎকার এবং কবর থেকে (সকলের) উত্থান
কেয়ামতের প্রথম আলামত নিয়ে সঠিক বর্ণনা
সহীহ মুসলিম : ৭২৭৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭২৭৪
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، قَالَ جَلَسَ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ بِالْمَدِينَةِ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَسَمِعُوهُ وَهُوَ، يُحَدِّثُ عَنِ الآيَاتِ، أَنَّ أَوَّلَهَا، خُرُوجًا الدَّجَّالُ فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو لَمْ يَقُلْ مَرْوَانُ شَيْئًا قَدْ حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا لَمْ أَنْسَهُ بَعْدُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . فَذَكَرَ بِمِثْلِهِ .
আবূ যুর’আহ্ (রাযি:) হতে বর্ণিতঃ
মদিনায় মারওয়ান ইবনুল হাকাম-এর কাছে তিনজন মুসলিম বসে ছিলেন। তিনি কেয়ামতের আলামতসমূহের বর্ণনা করছিলেন এবং তাঁরা তা শুনছিলেন। আলোচনায় তিনি বলছিলেন যে, কেয়ামতের আলামতসমূহের প্রথম আলামত হলো, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হওয়া। এ কথা শুনে আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) বললেন, মারওয়ানের কথা কিছুই হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এমন একটি হাদীস আমি সংরক্ষণ করেছি, যা কখনো আমি ভুলে যাইনি। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি। তারপর তিনি অবিকল বর্ণনা করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৭১১৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭১৭১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭২৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, মারওয়ান ইবনুল হাকাম কেয়ামতের আলামত নিয়ে আলোচনা করছিলেন এবং বলছিলেন যে প্রথম আলামত হলো দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ। তখন আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) বলেন, মারওয়ানের কথা ঠিক হয়নি। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) থেকে একটি হাদিস সংরক্ষণ করেছেন, যা তিনি ভুলেননি। এরপর তিনি আগের বর্ণনার মতো বলেন—পশ্চিম দিক থেকে সূর্য ওঠা এবং দাব্বাহ বের হওয়া বড় আলামত হিসেবে এসেছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কেয়ামতের আলামত নিয়ে কথা বলার সময় নির্ভরযোগ্য বর্ণনা অনুসরণ করতে হবে। দাজ্জাল অবশ্যই বড় ফিতনা, কিন্তু এখানে আলোচনার বিষয় হলো কোন আলামত প্রথম প্রকাশ পাবে। তাই হাদিসটি আমাদের শেখায়, ধর্মীয় বিষয়ে জনপ্রিয় কথা নয়, নবীর বর্ণনা মানদণ্ড।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ধর্মীয় আলোচনায় ভুল শুনলে দলীলসহ সংশোধন করা উচিত।
- দাজ্জাল বড় ফিতনা হলেও এই বর্ণনায় প্রথম আলামত প্রসঙ্গ আলাদা।
- সাহাবিরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বর্ণনা মনে রেখে তা সংরক্ষণ করতেন।
- কেয়ামতের আলামত নিয়ে অনুমান নয়, হাদিসের ভাষা অনুসরণ জরুরি।
