৫৩/১৭. অধ্যায়ঃ
মৃত ব্যক্তির কাছে জান্নাত কিংবা জাহান্নামের ঠিকানা উপস্থিত করা হয়, আর কবরের শাস্তি প্রমাণ করা এবং তাত্থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা
কবরে বান্দার পরীক্ষা: মৃত্যুর পর প্রথম শিক্ষা
সহিহ মুসলিম : ৭১১০
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭১১০
حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ زُرَارَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، - يَعْنِي ابْنَ عَطَاءٍ - عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ " . فَذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ شَيْبَانَ عَنْ قَتَادَةَ .>
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রেখে তার সঙ্গী-সাথীগণ প্রত্যাবর্তন করে, অতঃপর সাঈদ (রহঃ) শাইবান-এর সানাদে কাতাদাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৯৫৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৭০১২
সহিহ মুসলিম হাদিস ৭১১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের বর্ণনার মতো একই অর্থ এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা ফিরে যায়, তখন কবরের প্রশ্নের ঘটনা শুরু হয়। এখানে বিস্তারিত অংশ সংক্ষেপে এসেছে, কিন্তু বিষয়টি স্পষ্ট—মৃত্যুর পর মানুষের সামনে এক পরীক্ষা আছে। কবরের প্রশ্ন কোনো কল্পনা নয়; নবী صلى الله عليه وسلم তা জানিয়ে দিয়েছেন। এই হাদিসের সঙ্গে ৭১০৮ নম্বর হাদিসের সম্পর্ক খুব কাছের, যেখানে দুই ফেরেশতার প্রশ্ন, মুমিনের উত্তর এবং জান্নাতের আসনের কথা এসেছে। তাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো ঈমানের স্থিরতা। মানুষ দুনিয়ায় যাকে সত্য মনে করে, যাকে অনুসরণ করে এবং যার সাক্ষ্য দেয়—কবরে সেই সত্যেরই পরীক্ষা হবে। কবরের প্রশ্ন স্মরণ করলে মানুষের জীবন সহজে বদলে যেতে পারে, কারণ তখন সে বুঝে, মৃত্যুর পর শুধু বাহ্যিক পরিচয় কাজে আসে না; দরকার সত্য ঈমান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবরে বান্দার পরীক্ষা শুরু হয় দাফনের পর।
- সঙ্গীরা ফিরে গেলে মানুষের সঙ্গে থাকে তার ঈমান ও আমলের ফল।
- কবরের প্রশ্নের কথা মনে রাখা ঈমানকে সতর্ক রাখে।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো সত্য সাক্ষ্য জীবনের মূল ভরসা।
