৫৩/১৪. অধ্যায়ঃ
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা
হাশরের দিন ও আমলনামার ভয়ংকর সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৭০৯৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৯৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي كِلاَهُمَا، عَنْ شُعْبَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ النُّعْمَانِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا بِمَوْعِظَةٍ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ تُحْشَرُونَ إِلَى اللَّهِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً ( كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ) أَلاَ وَإِنَّ أَوَّلَ الْخَلاَئِقِ يُكْسَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَلاَ وَإِنَّهُ سَيُجَاءُ بِرِجَالٍ مِنْ أُمَّتِي فَيُؤْخَذُ بِهِمْ ذَاتَ الشِّمَالِ فَأَقُولُ يَا رَبِّ أَصْحَابِي . فَيُقَالُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ . فَأَقُولُ كَمَا قَالَ الْعَبْدُ الصَّالِحُ ( وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ شَهِيدٌ * إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ) قَالَ فَيُقَالُ لِي إِنَّهُمْ لَمْ يَزَالُوا مُرْتَدِّينَ عَلَى أَعْقَابِهِمْ مُنْذُ فَارَقْتَهُمْ " . وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ وَمُعَاذٍ " فَيُقَالُ إِنَّكَ لاَ تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ " .>
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উপদেশ সম্বলিত ভাষণ প্রদানের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সামনে খালি পা ও উলঙ্গদেহে এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত হবে। (আল্লাহর বাণী) ‘যেমন আমি প্রথম দিন সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, তেমনি তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা আমার একটি ওয়াদা, তা পালন করা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমি তা পালনে বদ্ধপরিকর।’ সাবধান! কেয়ামতের দিন সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম ইব্রাহিম (আঃ)-কে পোশাক পরিধান করানো হবে, সেদিন আমার উম্মতের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে হাজির করা হবে, এদের মধ্যে যারা বামহাতে আমলনামা প্রাপ্ত তাদের পাকড়াও করা হবে। তখন আমি বলব, হে আমার রব! এরা তো আমার উম্মত। উত্তরে আমাকে বলা হবে, তুমি জানো না তোমার পরে এরা কি কার্যকলাপে জড়িত ছিল।আমি তখন আল্লাহর সৎ বান্দা [ঈসা (আঃ)]-এর ন্যায় বলব, ‘যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততদিন আমি তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী এবং তুমিই সর্ব বিষয়ে সাক্ষী, তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদের মাফ করো তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ তখন আমাকে বলা হবে, তুমি তাদের থেকে বিদায় গ্রহণের পর থেকে তারা সবসময় মুখ ফিরিয়ে কুফরির আশ্রয় নিয়েছিল।” ওয়াকী‘ এবং মু‘আয-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে- অতঃপর বলা হবে, আপনি অবশ্য জানেন না আপনার পরে তারা কোন্ নতুন ধর্মমত আবিষ্কার করেছে?
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৯৩৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৯৯৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৯৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উপদেশমূলক ভাষণে বলেছেন, মানুষ আল্লাহর সামনে খালি পা, উলঙ্গ দেহ ও খতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত হবে। তিনি কুরআনের আয়াত উল্লেখ করে সৃষ্টির পুনরাবৃত্তির কথা বলেন। হাদিসে আরও এসেছে, কেয়ামতের দিন প্রথমে ইব্রাহিম (আঃ)-কে পোশাক পরানো হবে। এরপর নবীজির উম্মতের কিছু মানুষকে আনা হবে এবং যাদের বাম দিকের দিকে নেওয়া হবে তাদের বিষয়ে নবীজি বলবেন, তারা আমার উম্মত। তখন জানানো হবে, তাঁর বিদায়ের পর তারা কী করেছে। এই বর্ণনা বড় সতর্কতা দেয়: বাহ্যিক পরিচয় যথেষ্ট নয়, বরং সত্য পথে স্থির থাকা জরুরি। হাশর, আমলনামা এবং দ্বীন থেকে সরে যাওয়ার ভয় এখানে একসঙ্গে উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাশরের দিন প্রত্যেককে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে।
- শুধু পরিচয় নয়, নবীজির পথ ধরে থাকা জরুরি।
- দ্বীনের পথে পরিবর্তন ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
