৫৩/১৪. অধ্যায়ঃ
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা
কেয়ামতের হাশর: সবাই নিজ অবস্থায় ব্যস্ত থাকবে
সহীহ মুসলিম : ৭০৯০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৯০
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلاً " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ النِّسَاءُ وَالرِّجَالُ جَمِيعًا يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ قَالَ صلى الله عليه وسلم " يَا عَائِشَةُ الأَمْرُ أَشَدُّ مِنْ أَنْ يَنْظُرَ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ " .>
‘আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কেয়ামতের মাঠে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাতনাবিহীন অবস্থায়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! পুরুষ এবং মহিলা এক সঙ্গেই উত্থিত হবে আর তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি তাকাবে? তিনি বললেন, হে আয়েশা! তখনকার প্রেক্ষাপট এতটা কঠিন ও ভয়ংকর হবে যে, একে অপরের প্রতি তাকানোর কল্পনারও উদ্রেক হবে না।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৯৩৪, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৯৯২
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেয়ামতের মাঠে মানুষ খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খতনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত হবে। আয়েশা (রাঃ) জানতে চেয়েছিলেন, পুরুষ ও নারী একসঙ্গে হলে তারা কি একে অপরের দিকে তাকাবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানালেন, সেই দিনের অবস্থা এত কঠিন হবে যে এমন চিন্তার সুযোগ থাকবে না। হাশরের এই বর্ণনা কেয়ামতের ভয়, হিসাবের চিন্তা এবং মানুষের দুর্বল অবস্থাকে সামনে আনে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সেই দিন বাহ্যিক লজ্জা বা দুনিয়ার ভাবনা নয়, বরং নিজের পরিণতি নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকবে। তাই আজকের জীবনকে হিসাবের দিনের জন্য প্রস্তুত করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের দিন মানুষ খুব দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় উঠবে।
- হাশরের কঠিন অবস্থা মানুষকে নিজের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত করে দেবে।
- আজকের আমলই সেই দিনের প্রস্তুতির অংশ।
