৫৩/১৪. অধ্যায়ঃ
দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা
দুনিয়া ও আখিরাতের তুলনা: আঙুলের পানির শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ৭০৮৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৮৯
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي وَمُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ أَعْيَنَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، كُلُّهُمْ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ، حَاتِمٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنَا قَيْسٌ، قَالَ سَمِعْتُ مُسْتَوْرِدًا، أَخَا بَنِي فِهْرٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَاللَّهِ مَا الدُّنْيَا فِي الآخِرَةِ إِلاَّ مِثْلُ مَا يَجْعَلُ أَحَدُكُمْ إِصْبَعَهُ هَذِهِ - وَأَشَارَ يَحْيَى بِالسَّبَّابَةِ - فِي الْيَمِّ فَلْيَنْظُرْ بِمَ يَرْجِعُ " . وَفِي حَدِيثِهِمْ جَمِيعًا غَيْرَ يَحْيَى سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ذَلِكَ . وَفِي حَدِيثِ أَبِي أُسَامَةَ عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ أَخِي بَنِي فِهْرٍ وَفِي حَدِيثِهِ أَيْضًا قَالَ وَأَشَارَ إِسْمَاعِيلُ بِالإِبْهَامِ .>
বানূ ফিহ্র-এর ভাই মুসতাওরিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনায় ততটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙুলটি সমুদ্রের পানিতে ভিজিয়ে দেখলে যে, কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহিয়া এ সময় শাহাদাত আঙুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়াহিয়া ছাড়া সকলের বর্ণনার মাঝেই আছে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ কথা বলতে শুনেছি। আর আবূ উসামার বর্ণনাতেও শব্দ উল্লেখ রয়েছে। তাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, ইসমাঈল বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৯৩৩, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৯৯১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুনিয়া ও আখিরাতের তুলনা খুব সহজ একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইহকাল-পরকালের তুলনা এমন, যেমন কেউ সমুদ্রের পানিতে আঙুল ডুবিয়ে তুলে দেখে আঙুলে কতটুকু পানি লেগেছে। সমুদ্রের সামনে আঙুলে লেগে থাকা পানি খুব সামান্য। ঠিক তেমনি আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন অল্প ও সীমিত। এই হাদিস আমাদের দুনিয়া ছেড়ে দেওয়া নয়, বরং দুনিয়াকে তার সঠিক জায়গায় রাখার শিক্ষা দেয়। দুনিয়ার সুখ, কষ্ট, লাভ বা ক্ষতি স্থায়ী নয়। মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন জীবন গড়া, যা আখিরাতের জন্য উপকারী হয়। তাই দুনিয়া নিয়ে অতিরিক্ত মগ্ন না হয়ে আখিরাতের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবন খুব অল্প।
- দুনিয়ার লাভ-ক্ষতি স্থায়ী নয়, তাই ভারসাম্য দরকার।
- আখিরাতের প্রস্তুতি মুমিনের জীবনে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত।
