৫৩/১৩. অধ্যায়ঃ
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে
মৃত্যুকে যবাহ করার দিন: জান্নাত ও জাহান্নামের চিরস্থায়িত্ব
সহিহ মুসলিম : ৭০৭৩
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৭৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يُجَاءُ بِالْمَوْتِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُ كَبْشٌ أَمْلَحُ - زَادَ أَبُو كُرَيْبٍ - فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ - وَاتَّفَقَا فِي بَاقِي الْحَدِيثِ - فَيُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيَقُولُونَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ - قَالَ - وَيُقَالُ يَا أَهْلَ النَّارِ هَلْ تَعْرِفُونَ هَذَا قَالَ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيَقُولُونَ نَعَمْ هَذَا الْمَوْتُ - قَالَ - فَيُؤْمَرُ بِهِ فَيُذْبَحُ - قَالَ - ثُمَّ يُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ خُلُودٌ فَلاَ مَوْتَ وَيَا أَهْلَ النَّارِ خُلُودٌ فَلاَ مَوْتَ " . قَالَ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ( وَأَنْذِرْهُمْ يَوْمَ الْحَسْرَةِ إِذْ قُضِيَ الأَمْرُ وَهُمْ فِي غَفْلَةٍ وَهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ) وَأَشَارَ بِيَدِهِ إِلَى الدُّنْيَا .>
আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সাদা মেষের আকৃতিতে উপস্থিত করা হবে। আবূ কুরায়ব বর্ধিত বর্ণনা করে বলেন, তারপর তাকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যস্থলে দাঁড় করানো হবে। এরপর উভয়ই অবশিষ্ট হাদীস একই রকম বর্ণনা করেছেন। তখন বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! তোমরা কি একে চিনো? এ কথা শুনে তারা মাথা উঠিয়ে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ, এ তো মৃত্যু। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জাহান্নামীগণ! তোমরা কি একে চিনো? তখন তারা মাথা তুলে দেখবে এবং বলবে, হ্যাঁ! এতো মৃত্যু। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে এবং সেটাকে যবাহ করা হবে।বর্ণনাকারী বলেন, এরপর বলা হবে, হে জান্নাতীগণ! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানে থাকবে। হে জাহান্নামীরা! মৃত্যু নেই, তোমরা অনন্তকাল এখানেই থাকবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঠ করলেন, “তুমি তাদেরকে সাবধান করে দাও-অনুশোচনার দিন সম্পর্কে, যখন সকল বিষয়ে ফায়সালা করা হবে। অথচ তারা গাফলতির মাঝে নিপতিত হয়ে আছে এবং ঈমান গ্রহণ করছে না।” এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় হাত দ্বারা দুনিয়ার প্রতি ইশারা করলেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৯১৮, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৯৭৫
সহিহ মুসলিম হাদিস ৭০৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের এক গভীর দৃশ্য এসেছে। মৃত্যুকে সাদা মেষের আকৃতিতে আনা হবে এবং জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে দাঁড় করানো হবে। জান্নাতীদের জিজ্ঞেস করা হবে, তারা একে চিনে কি না। তারা বলবে, এটি মৃত্যু। জাহান্নামীদেরও একইভাবে জিজ্ঞেস করা হবে, তারাও বলবে, এটি মৃত্যু। এরপর মৃত্যুকে যবাহ করা হবে। তারপর ঘোষণা হবে, হে জান্নাতীগণ, মৃত্যু নেই; তোমরা অনন্তকাল থাকবে। হে জাহান্নামীগণ, মৃত্যু নেই; তোমরাও অনন্তকাল থাকবে। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) অনুশোচনার দিনের আয়াত পাঠ করেছেন। এই হাদিস অনন্ত জীবন, কেয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের স্থায়ী পরিণতি নিয়ে মানুষকে জাগিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরকালে জান্নাত ও জাহান্নামের জীবন চিরস্থায়ী হবে।
- মৃত্যুকে যবাহ করার ঘোষণা পরকালের চূড়ান্ত ফয়সালা বোঝায়।
- দুনিয়ার গাফলতি মানুষকে অনুশোচনার দিকে নিতে পারে।
- এই হাদিস জান্নাতের আশা ও জাহান্নামের ভয় দুটোই মনে করায়।
