৫৩/১৩. অধ্যায়ঃ
দুর্দান্ত প্রতাপশালীরা জাহান্নামে এবং দুর্বলেরা যাবে জান্নাতে
জান্নাত ও জাহান্নামের তর্ক: রহমত ও আযাব
সহীহ মুসলিম : ৭০৬৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৭০৬৭
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " تَحَاجَّتِ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقَالَتِ النَّارُ أُوثِرْتُ بِالْمُتَكَبِّرِينَ وَالْمُتَجَبِّرِينَ . وَقَالَتِ الْجَنَّةُ فَمَا لِي لاَ يَدْخُلُنِي إِلاَّ ضُعَفَاءُ النَّاسِ وَسَقَطُهُمْ وَغِرَّتُهُمْ قَالَ اللَّهُ لِلْجَنَّةِ إِنَّمَا أَنْتِ رَحْمَتِي أَرْحَمُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي . وَقَالَ لِلنَّارِ إِنَّمَا أَنْتِ عَذَابِي أُعَذِّبُ بِكِ مَنْ أَشَاءُ مِنْ عِبَادِي . وَلِكُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْكُمَا مِلْؤُهَا فَأَمَّا النَّارُ فَلاَ تَمْتَلِئُ حَتَّى يَضَعَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى رِجْلَهُ تَقُولُ قَطْ قَطْ قَطْ . فَهُنَالِكَ تَمْتَلِئُ وَيُزْوَى بَعْضُهَا إِلَى بَعْضٍ وَلاَ يَظْلِمُ اللَّهُ مِنْ خَلْقِهِ أَحَدًا وَأَمَّا الْجَنَّةُ فَإِنَّ اللَّهَ يُنْشِئُ لَهَا خَلْقًا " .>
হাম্মাম ইবনু মুনাব্বিহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরায়রা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি হাদীস হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জান্নাত ও জাহান্নাম পরস্পর তর্কে লিপ্ত হয়েছে। জাহান্নাম বলল, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অহংকারীদের জন্য আমাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।জান্নাত বলল, আমার কি হলো, আমার মাঝে কেবল দুর্বল ও নগণ্য লোকেরাই প্রবেশ করবে। এ কথা শুনে আল্লাহ তা'আলা জান্নাতকে বললেন, তুমি আমার রহমত। তোমার দ্বারা আমার বান্দাদের যাকে চাই তার প্রতি আমি রহমত নাযিল করব এবং তিনি জাহান্নামকে বললেন, তুমি আমার আযাব। তোমার দ্বারা আমি আমার বান্দাদের যাকে ইচ্ছা আযাব দিব। বস্তুতঃ তোমাদের প্রত্যেকের জন্যই পেট ভরপুর করার ব্যবস্থা আছে।কিন্তু জাহান্নাম কিছুতেই পরিপূর্ণ হবে না। পরিশেষে তিনি স্বীয় পা মুবারক তার উপরে রাখলে তখন জাহান্নাম বলবে, হয়েছে, যথেষ্ট হয়েছে। তখনই জাহান্নাম পরিপূর্ণ হবে এবং এর একাংশ অন্য অংশের সাথে মিলে গিয়ে সংকুচিত হয়ে আসবে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির কারো উপর অবিচার করবেন না। আর জান্নাত পরিপূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তা'আলা অন্য মাখলুক সৃষ্টি করবেন।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৯১২, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৯৬৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ৭০৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জান্নাত ও জাহান্নামের তর্কের কথা এসেছে। জাহান্নাম বলে, প্রভাবশালী অহংকারী ও দাম্ভিক লোকদের জন্য তাকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আর জান্নাত বলে, তার মধ্যে দুর্বল ও নগণ্য মনে করা লোকেরা প্রবেশ করবে। আল্লাহ জান্নাতকে বলেছেন, তুমি আমার রহমত; যার প্রতি চাই তোমার মাধ্যমে রহমত করি। আর জাহান্নামকে বলেছেন, তুমি আমার আযাব; যার ওপর চাই তোমার মাধ্যমে আযাব দিই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক শক্তি বা দুনিয়ার বড়ত্ব আল্লাহর কাছে সাফল্যের মাপকাঠি নয়। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো ওপর অবিচার করেন না। জান্নাত-জাহান্নাম, আল্লাহর রহমত, অহংকারের শাস্তি—সব বিষয় এই হাদিসে খুব স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অহংকার ও দাম্ভিকতা জাহান্নামের পথে নিয়ে যেতে পারে।
- দুনিয়ায় দুর্বল মনে করা মানুষও আল্লাহর রহমত পেতে পারে।
- জান্নাত আল্লাহর রহমতের প্রকাশ, আর জাহান্নাম তাঁর আযাবের স্থান।
- আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কারো ওপর অবিচার করেন না।
