৫২/৭. অধ্যায়ঃ
ধুম্র প্রসঙ্গ
ধোঁয়ার আয়াত বুঝতে জ্ঞানের সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ৬৯৬০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৬৯৬০
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ، الأَشَجُّ أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ رَجُلٌ فَقَالَ تَرَكْتُ فِي الْمَسْجِدِ رَجُلاً يُفَسِّرُ الْقُرْآنَ بِرَأْيِهِ يُفَسِّرُ هَذِهِ الآيَةَ ( يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ) قَالَ يَأْتِي النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ دُخَانٌ فَيَأْخُذُ بِأَنْفَاسِهِمْ حَتَّى يَأْخُذَهُمْ مِنْهُ كَهَيْئَةِ الزُّكَامِ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْ عَلِمَ عِلْمًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ لِمَا لاَ عِلْمَ لَهُ بِهِ اللَّهُ أَعْلَمُ . إِنَّمَا كَانَ هَذَا أَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ فَأَصَابَهُمْ قَحْطٌ وَجَهْدٌ حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنَ الْجَهْدِ وَحَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَغْفِرِ اللَّهَ لِمُضَرَ فَإِنَّهُمْ قَدْ هَلَكُوا فَقَالَ " لِمُضَرَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ " . قَالَ فَدَعَا اللَّهَ لَهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلاً إِنَّكُمْ عَائِدُونَ) قَالَ فَمُطِرُوا فَلَمَّا أَصَابَتْهُمُ الرَّفَاهِيَةُ - قَالَ - عَادُوا إِلَى مَا كَانُوا عَلَيْهِ - قَالَ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ * يَغْشَى النَّاسَ هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ) ( يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ) قَالَ يَعْنِي يَوْمَ بَدْرٍ .>
মাসরূক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, “আমি মসজিদে এক লোককে দেখে এসেছি, সে কুরআনের ইচ্ছামাফিক তাফসির করছে। সে يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলছে যে, কেয়ামতের দিন ধোঁয়া এসে লোকদের আবৃত করে ফেলবে ও তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলবে, এমনকি এতে লোকদের সর্দির ন্যায় অবস্থা হয়ে যাবে।” এ কথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) বললেন, “যে ব্যক্তি যে বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে তার বলা অনুচিত, আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। কেননা অজানা বিষয় সম্বন্ধে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত, এ কথা বলাই মানুষের পরিপূর্ণ জ্ঞানের লক্ষণ। কারণ এ বিষয়টি তখনই সংঘটিত হয়েছিল, যখন কুরাইশরা নবী (ﷺ)-এর অবাধ্যতা করেছিল। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করেন যেন ইউসুফ (আঃ)-এর সময়ের সাত বছরের মতো অভাব-অনটন তাদের উপর নিপতিত হয়। এরপর তাদের উপর অভাব-অনটন এবং ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে নিপতিত হলো যে, কেউ আকাশের দিকে তাকালে সে ধোঁয়াচ্ছন্ন দেখত, এমনকি তারা হাড্ডি খাওয়া শুরু করল।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৬৮১০, ইসলামীক সেন্টারঃ ৬৮৬৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ৬৯৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন লোক আবদুল্লাহ রা.-কে জানায়, মসজিদে একজন ব্যক্তি কুরআনের একটি আয়াত নিজের মত ব্যাখ্যা করছে। সে বলছে, কেয়ামতের দিন ধোঁয়া এসে মানুষকে আবৃত করবে এবং শ্বাসরুদ্ধ করবে। আবদুল্লাহ রা. বলেন, যে জানে সে জ্ঞান অনুযায়ী বলবে, আর যে জানে না সে বলবে—আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। এরপর তিনি বলেন, এই ঘটনা ঘটেছিল যখন কুরাইশরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর অবাধ্যতা করেছিল। নবী صلى الله عليه وسلم তাদের বিরুদ্ধে ইউসুফ আ.-এর সময়ের মতো বছরের দোয়া করেন। দুর্ভিক্ষে তারা আকাশে ধোঁয়ার মতো দেখত। পরে দোয়ার পর বৃষ্টি হয়, কিন্তু তারা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের তাফসিরে জ্ঞান ছাড়া কথা বলা বিপজ্জনক।
- অজানা বিষয়ে আল্লাহই অধিক জ্ঞাত বলা পরিপূর্ণ জ্ঞানের লক্ষণ।
- দুর্ভিক্ষের ধোঁয়া-দেখা ঘটনাকে আবদুল্লাহ রা. আয়াতের ব্যাখ্যায় এনেছেন।
- স্বস্তি ফিরে এলে আগের ভুলে ফিরে যাওয়া মানুষের দুর্বলতা।
